Site icon Hindustan News Point

Nisith Pramanik: “ক্রীড়াঙ্গন হবে রাজনীতি মুক্ত”, উন্নয়ন, প্রতিভা ও ‘মেসি কাণ্ড’ নিয়ে বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর

Nisith Pramanik

পশ্চিমবঙ্গের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বড়সড় বার্তা দিলেন নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik)। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে এবার স্বচ্ছতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভা বিকাশই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি (Nisith Pramanik) সরাসরি আক্রমণ করেন আগের তৃণমূল সরকারকে এবং অভিযোগ তোলেন যে দীর্ঘদিন ধরে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে “nepotism” ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে, যার ফলে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র খেলতে বাধ্য হয়েছেন।

নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। কেন্দ্রে কাজ করার সময় আমি অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো ঘুরে দেখেছি। খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প কীভাবে বিভিন্ন জেলায় প্রতিভা তুলে আনছে, তা কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই সুযোগ আনার জন্য বারবার চিঠি পাঠিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

(Nisith Pramanik) নিশীথ প্রামাণিকের দাবি, কেন্দ্রের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের সুবিধা বাংলার খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের সরকার আগ্রহ দেখায়নি। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় যেমন সুইমিং, হকি বা কুস্তির জন্য বিশেষ সেন্টার তৈরি হয়েছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গেও জেলাভিত্তিক ক্রীড়া কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার বহু প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে আজ অন্য রাজ্যের হয়ে খেলতে বাধ্য হচ্ছে। “এই রাজ্যের অংশগ্রহণ শূন্যের দিকে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই প্রতিভা বাংলাতেই বিকশিত হোক,” বলেন নতুন মন্ত্রী। তাঁর মতে, ক্রীড়াক্ষেত্রে যোগ্যতার বদলে পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিভাকে চাপা দিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি (Nisith Pramanik) উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের নাম। নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “স্বপ্না বর্মণের মতো খেলোয়াড়ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে যথাযথ সমর্থন পাননি। সাই থেকে সাহায্য পেলেও রাজ্য সরকারের তরফে কেউ তাঁর কথা শোনেনি। বাধ্য হয়ে তাঁকে মধ্যপ্রদেশের হয়ে খেলতে হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা আর হতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের পাশে সরকার দাঁড়াবে।

১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন তাপস রায়: Nisith Pramanik: “ক্রীড়াঙ্গন হবে রাজনীতি মুক্ত”, উন্নয়ন, প্রতিভা ও ‘মেসি কাণ্ড’ নিয়ে বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর

ফুটবল নিয়ে বিশেষ আবেগঘন সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, “ফুটবল বাঙালির আবেগ। আমরা মানুষের আবেগের বাইরে নই।” বাংলার ফুটবলের উন্নয়নে জেলা স্তর থেকে বড় ক্লাব—সবার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল-সহ প্রত্যন্ত এলাকাতেও প্রতিভা খুঁজে বের করে সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী।

একই সঙ্গে বহুল আলোচিত ‘মেসি কান্ড’ নিয়েও মুখ খোলেন নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik)। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিতর্ক এবং টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত ঘটনাকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, তিনি ইতিমধ্যেই পুরো ফাইল চেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “যে সংস্থা টিকিট বিক্রি করেছিল, সেই বিষয়টির তদন্ত নিশ্চিতভাবে হবে।”

নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik) আরও বলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে। “রাজনীতি ব্যক্তিগত আদর্শ হতে পারে, কিন্তু ক্রীড়াঙ্গন রাজনীতি মুক্ত থাকবে,” স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, খেলাধুলা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনাও করেন। (Nisith Pramanik) তাঁর অভিযোগ, গত পনেরো বছরে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব ক্রীড়াক্ষেত্রেও পড়েছে। তবে অতীত নিয়ে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী।

সব মিলিয়ে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik) স্পষ্ট করে দিলেন যে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছেন। খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের সম্প্রসারণ, ফুটবলের পুনরুজ্জীবন, জেলা স্তরে প্রতিভা খোঁজা, ‘মেসি কান্ড’-এর তদন্ত এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছতা—এই পাঁচটি বিষয়কেই তিনি তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। এখন দেখার, মাঠের লড়াইয়ে তাঁর এই প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়।


Exit mobile version