Site icon Hindustan News Point

‘বহিরাগতদের এনে হামলা করানো হয়েছে’, সোনারপুর ঘটনায় অভিযোগ অভিষেকের

Abhishek Banerjee

শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ি যাওয়ার সময়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিক্ষুব্ধ জনতার তরফ থেকে তাঁর দিকে ধেয়ে আসে কিল, চড়, ঘুষি। অভিষেককে নিশানা করে ছোড়া হয় ডিম, জুতো। নিজেকে বাঁচাতে হেলমেট পরতে হয় অভিষেককে। তারপর কোনও মতে নিহত কর্মীর বাড়ি গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। সেখানেই এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। যারা আক্রমণ করেছে তাদেরকে বহিরাগত বলে দাগিয়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

এদিন অভিষেক অভিযোগ করেন, “আগে থেকে লোক এনে রাখা হয়েছিল। আমি নামলেই যাতে আমার ওপর আক্রমণ করা হয়। আমার জামা, প্যান্ট ছিঁড়ে দিয়েছে। মহিলাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে। মাথায় হেলমেট পরে ছিলাম বলে বেঁচে গেছি। আমায় মেরেছে, ঘড়ি, বেল্ট ছিঁড়ে দিয়েছে।” একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও নিশানা করেন অভিষেক।

তবে হামলার পরেও নিজের জায়গা ছাড়তে নারাজ অভিষেক। “আমি বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছি বলে আমার বিরুদ্ধে FIR, মিথ্যে মামলা ফাঁসানোর প্রচেষ্টা। করুক, ওদের ক্ষমতার থেকেও আমার জেদ বেশি”, বললেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।

এদিন এই হামলার পরেও ঘটনাস্থলে পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তাঁর ওপর যখন হামলা হচ্ছিল, সেই সময়ে কোনও পুলিশকর্মী ছিলেন না। তাড়াতাড়ি যাতে আরও বাহিনী আসে তার জন্য দলের কর্মীদের থানায় যেতে বলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীদের ওই এলাকায় ঢুকতে দেখা যায়। অবশেষে সোনারপুর থানার পুলিশও পৌঁছায়। বারুইপুর পুলিশ জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ যায় এলাকায়। যে বাড়িটিতে অভিষেক ছিলেন, সেই বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ পরে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সোনারপুর থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাইরে বের করে নিয়ে আসে।

অভিষেক বলেন, নিজের প্রাণের পরোয়া তিনি করেন না, তবে পুলিশ প্রশাসন না থাকায় সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা মাকে ছেড়ে তিনি যেতে ভরসা পাচ্ছেন না। অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “ওরা আমার প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক, আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। কিন্তু আমি জায়গা ছেড়ে যাব না। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে এ অবস্থায় ছেড়ে যাব না। যতক্ষণ না ফোর্স আসছে।”

যদিও এই ঘটনাকে জনগণের রোষ বলেই দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি সরকারে আছে বলেই তৃণমূল কর্মীরা এখনও নিরাপদে আছেন, বলেন শমীক। অন্যদিকে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘শাসকই হত্যাকারী’ বলে বিজেপিকে নিশানাও করেছেন নেত্রী।


Exit mobile version