ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তুফান উঠেছে। এই আবহেই বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । তাঁর দাবি, “১০ জন্মেও বাংলাবিরোধী গুজরাটি গ্যাং ডায়মন্ড হারবার মডেলে আঁচড় কাটতে পারবে না।”
শনিবার বিজেপির IT সেলের প্রধান অমিত মালব্য ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “Diamond Harbour model crumbles।” সেই মন্তব্যেরই কড়া জবাব দেন অভিষেক। (Abhishek Banerjee) তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “সব শক্তি নিয়ে আসুন। দিল্লির গডফাদারদের পাঠান। সাহস থাকলে ফলতা থেকে লড়ে দেখান। ডায়মন্ড হারবার মডেল ভাঙতে ১০ জন্মও যথেষ্ট নয়।”
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাকে অপমান করার রাজনীতি করছে। সেই সুরেই অভিষেক (Abhishek Banerjee) বিজেপিকে “বাংলাবিরোধী গুজরাটি গ্যাং” বলে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই মন্তব্যে সরাসরি নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
উল্লেখ্য, ফলতা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, যেখানে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন ২৮৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। আগামী ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ভোট গণনা হবে ২৪ মে।
ফলতা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির দেবাংশু পাণ্ডা। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের দিন বহু জায়গায় ভোটারদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ সামনে এনে বিজেপির রাজ্য সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভও দেখান। যদিও তৃণমূল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতা পুনর্নির্বাচন এখন শুধু একটি কেন্দ্রের লড়াই নয়, বরং ডায়মন্ড হারবার মডেল বনাম বিজেপির সংগঠন শক্তির প্রতীকী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যে স্পষ্ট, এই ইস্যুতে কোনওভাবেই রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে চাইছে না তৃণমূল।

