পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নাটকীয় মোড়। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেই (Abhishek Banerjee Suspended) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন ‘নতুন তৃণমূল’ শিবির। সোমবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী বিধায়ক ও নেতাদের ওই বৈঠকে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের পাশাপাশি একাধিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের (Abhishek Banerjee Suspended) প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছিল এবং বহু প্রবীণ নেতা উপযুক্ত গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না।
শুধু অভিষেকই নন, এই বৈঠকে তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও রথীন ঘোষ। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাখা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে।
অতীতে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই ঋতব্রতই এখন বিদ্রোহী শিবিরের মুখ হয়ে (Abhishek Banerjee Suspended) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের প্রস্তাব পাশ করালেন। সেই বহিষ্কৃত নেতা, সোমবার হয়ে উঠলেন ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেওয়া মুখ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে এটি নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়—এ এক ‘পাওয়ার গেমের পাল্টা স্ট্রোক’, যেখানে বহিষ্কৃত নেতাই হয়ে উঠেছেন ক্ষমতার নতুন দাবিদার।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের বৈঠকে কয়েক ডজন বিধায়ক এবং প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠক থেকেই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মসমিতির রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ১০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতিও ঘোষণা করা হয়েছে। কাজল শেখ, বিপ্লব মিত্র এবং আখরুজ্জামান এই কর্মসমিতির সদস্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, (Abhishek Banerjee Suspended) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার ঘোষণা নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতীকী বার্তা। কারণ গত কয়েক বছরে দলের কার্যত দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অভিষেক।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের কটাক্ষ, “যে দল একসময় বিরোধীদের ভাঙনের রাজনীতি নিয়ে সরব ছিল, এখন সেই দলের মধ্যেই চলছে ‘চেয়ার বদল’ আর ‘পদ বদল’-এর প্রতিযোগিতা।” যদিও কালীঘাট শিবিরের তরফে এই ঘোষণাগুলিকে এখনও কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ‘সাসপেনশন’ কি শুধুই রাজনৈতিক প্রতীকী পদক্ষেপ, নাকি বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় কোনও সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত? আপাতত সেই উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।
যেখানে সেখানে খোলা যাবে না মদের দোকান, নতুন নির্দেশ সরকারের

