Site icon Hindustan News Point

Adrit Pal: উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়েও নম্র আদৃত, আবেগে ভাসলেন বাবা-মা

Adrit Pal

উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম হয়েছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদৃত পাল (Adrit Pal)। ফল প্রকাশের পর থেকেই আনন্দে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক ও নরেন্দ্রপুর মিশনের পরিবেশ। তবে সাফল্যের ঝলকের মাঝেও আদৃতের (Adrit Pal) কথায় বারবার উঠে এল নম্রতা, অধ্যবসায় আর শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। অন্যদিকে ছেলের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা-মাও তুলে ধরলেন আদৃতের মানবিক দিক, ছোটবেলার অভ্যাস এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা।

আদৃতের মা ডাঃ ফাল্গুনী পাল বললেন, “ওর যেটা আমার সবথেকে ভালো লাগে, সেটা হচ্ছে ওর সাহায্য করার মানসিকতা। নম্বরটাই তো সব নয়। ও সবাইকে খুব সাহায্য করে। বাড়িতে দাদু, আমার মা— সকলের প্রতিই ও যত্নশীল। সন্তান হিসেবে খুব ভালো।” ছেলের ছোটবেলার নানা দিক তুলে ধরে তিনি জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি আদৃত কবিতা লেখে, সিনথেসাইজার ও তবলা বাজাতে ভালোবাসে। খেতেও খুব পছন্দ করে। তবে শুধুমাত্র নম্বরের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করার বিরোধী তিনি। তাঁর কথায়, “মানুষ হিসেবে ভালো হওয়াটাই আসল।”

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের পরিবেশের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন আদৃতের মা। তিনি বলেন, “এখানকার শিক্ষক, স্টাফ, হাউস মাস্টার, মহারাজ— সকলকে ধন্যবাদ। আমরা যতটা দেখেছি, ওনাদের কাছে ও আরও বেশি সময় থেকেছে। এখানকার সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আলাদা করে কোচিং নিতে হয় না। শিক্ষকরা নিজেরাই সবসময় গাইড করেন।”

আদৃতের বাবা ডাঃ জীবনকৃষ্ণ পালও ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত। তিনি বলেন, “ও ভালো করবে সেটা ওর প্রচেষ্টাতেই বোঝা গিয়েছিল। মহারাজদের অনুপ্রেরণা আর হস্টেলের পরিবেশ ওকে অন্যভাবে তৈরি করেছে। থার্ড সেমিস্টারে ও সেকেন্ড র‍্যাঙ্ক করেছিল, তাই একটা আশা ছিল। তবে প্রথম হবে, সেটা নিশ্চিতভাবে কেউ ভাবিনি।”

(Adrit Pal) ছেলের নানা গুণের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আদৃত রান্না করতে ভালোবাসে, নিজের মতো করে নতুন খাবার বানায়। আগে খেলাধুলাও করত, যদিও উচ্চ মাধ্যমিকের চাপে সেটা কিছুটা কমে যায়। তবলা বাজানো ও গান করার অভ্যাসও রয়েছে তার। ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবার বক্তব্য, “ওর নিজের চিন্তাভাবনা থেকেই যা করবে, সেটাই করুক। তবে বিজ্ঞান নিয়েই এগোতে চায়।”

অন্যদিকে আদৃতের (Adrit Pal) প্রতিক্রিয়াতেও ধরা পড়েছে পরিণত ভাবনা। সে জানায়, “প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা ইউনিক। মাধ্যমিকে আমি একাদশ হয়েছিলাম। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। লাক ফ্যাক্টর অনেকটাই কাজ করে।” তার মতে, নরেন্দ্রপুরের পরিবেশই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। “এখানকার পরিবেশ অর্ধেক পড়াশোনার আবহ তৈরি করে দেয়। শিক্ষকরা যেভাবে গাইড করেছেন, আমি শুধু সেটা অনুসরণ করেছি। এখানে সবাই খুব ভালো ছাত্র।”

(Adrit Pal) আদৃত জানায়, নিয়ম মেনে দিনে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ, বাড়িতে গেলে খাওয়াদাওয়া— সবকিছুর মধ্যেই ছিল স্বাভাবিক জীবন। আগামী দিনে পিওর সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছের কথাও জানিয়েছে সে।

ফলাফলের উজ্জ্বল সংখ্যার আড়ালে তাই আদৃত পালের গল্প শুধু একজন প্রথম হওয়া ছাত্রের নয় বরং এক মানবিক, নম্র এবং স্বপ্নবান তরুণের গল্প— যার সাফল্যে গর্বিত আজ গোটা রামকৃষ্ণ মিশন। এই মেধাবী ছাত্র যেন মনে করিয়ে দিল— শুধু নম্বর নয়, মানুষ হিসেবেও বড় হয়ে ওঠাটাই আসল সাফল্য।

 স্কুলের প্রার্থনায় এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’, নতুন নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের: Adrit Pal: উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়েও নম্র আদৃত, আবেগে ভাসলেন বাবা-মা
Exit mobile version