‘অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সকলকেই পূরণ করতে হবে’। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কথা জানান। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Bhandar) সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন তিনি। কতদিন চলবে এই প্রক্রিয়া? মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘১ জুন থেকে ৯০ দিন এই প্রক্রিয়াটা চালাব। কীভাবে হবে? অনলাইনে হবে, অফলাইনেও হবে।’ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন-প্রক্রিয়া কতদিন চলবে সেই বিষয়ে খোলসা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এখন প্রশ্ন হলো, কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, আর কারা পাবেন না? সে কথাও ঘোষণা করে বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ ‘বেনোজল’ মিশে রয়েছে। তা বাদ দিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য। এই ফর্মের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই। তিন মাস এই প্রক্রিয়া চলছে। যত দিন অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হচ্ছে, তত দিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চলবে। যাঁরা নতুন প্রকল্পের অধীনে ঢুকে যাবেন, তাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে। ২ জুনের মধ্যে যাঁরা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করিয়ে নিতে পারবেন, তাঁরা জুন মাস থেকেই টাকা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যাঁরা আপিল ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি, CAA তেও আবেদন করেনি তারাও এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পাচ্ছিলেন। তবে এবার থেকে তা আর হবে না। যারা দেশের বৈধ নাগরিক তাদেরই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন, ‘পরিচ্ছন্ন তালিকা তৈরি করতে হবে। ছাঁটাই প্রক্রিয়া শেষ হলেও প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি উপভোক্তা থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।’ এই প্রক্রিয়ায় জেলাশাসক, বিডিও, কমিশনররাও যুক্ত থাকবেন। যুক্ত থাকবেন বিধায়কেরাও। ফর্ম ফিলাপ সাহায্য করবেন তাঁরা।
তিনি আরও বলেন, ‘একদিনে সকলের ফর্ম ফিল আপ সম্ভব নয়। হুড়োহুড়ি করার কিছু নেই। যতক্ষণ না উপভোক্তারা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ র ফর্ম ফিলআপ করছেন, ততক্ষণ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর সুবিধাই পাবেন।’
আরও বলা হয়, আগামী জুন মাসের ২ তারিখ থেকেই যারা আবেদন করে ফেলবেন তাঁদের DBT-র মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। যাঁরা আয়কর দেন তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না।

