ভালোবাসার অন্য নাম সংগ্রাম, তা আমরা কম বেশি সকলেই জানি। ভালোবাসার মানুষটিকে পাওয়ার জন্য কখনও সংগ্রাম করতে হয় সমাজের সঙ্গে, কখনও বা পরিস্থিতির সঙ্গে। আবার কখনও বিধাতার সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে ছিনিয়ে আনতে হয় প্রেয়সীকে। ঠিক যেমন ভগবানের সঙ্গে লড়াই করে সত্যবানকে ছিনিয়ে এনেছিল সাবিত্রী।
ঠিক সেইরকমই এই যুগেও সাবিত্রীর মত ভালোবাসার সংগ্রাম করছেন সোমা শীল চট্টোপাধ্যায়। নিজের স্বামীকে সুস্থ করে তুলে আবার স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপনের লড়াই। হটাৎ ঝড়ে ভেঙে পড়া নিজেদের স্বপ্নিল সংসারটা আবার সাজানোর আপামর চেষ্টায় প্রাণপাত করছেন সোমা।
সোমার স্বামী সার্বত্রিক একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বিগত পাঁচ মাস ধরে কোমায়। শরীর সাড় হারালেও, সার্বত্রিক কিন্তু সর্বক্ষণ পাশে পাচ্ছেন তাঁর জীবন সঙ্গিনীকে।
সার্বত্রিকের জীবনের প্রখর রৌদ্রে যেন সোমার পরম মমতা শান্ত-শীতল ছায়া। নিজের শেষটুকুও বিলীন করেছেন স্বামীর সেবায়। নানাভাবে, নানা কৌশলে চেষ্টা করেন স্বামীর মন ভালো রাখার। নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে রোজ হাসপাতালে দেখা করতে যান স্বামীর সঙ্গে। তারপর খুলে বসেন নিজের গল্পের ঝুলি। নানা গল্পে, কথায় মাতিয়ে রাখেন স্বামীকে। যদি হটাৎ তাঁর কথায় জবাব দেয় সার্বত্রিক। চোখ মেলে তাকায়। বা বলে, ‘চলো আবার ফিরে যাই আমাদের লাল-নীল সংসারে’। একরাশ বুক ভরা আশা নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন সোমা।
এই সব কিছুর মাঝে ফের উপস্থিত হয় সেই বিশেষ দিনটি। ৫ মার্চ, সোমা ও সার্বত্রিকের বিয়ের জন্মদিন অর্থাৎ বিবাহবার্ষিকী। এবার সোজা কেক ফুল নিয়ে সোমা হাজির স্বামীর কেবিনে। স্পেশাল মানুষটাকে আরেকটু স্পেশাল ফিল করানোর চেষ্টা। কেবিনেই হলো বার্ষিকী উদযাপন। কেক কেটে, স্বামীর অসাড় হাত দিয়ে ফের একবার নিজের সিঁথি রাঙিয়ে নিলেন সোমা। ক্যামেরা বন্দিও করলেন অমূল্য মুহূর্তের।
তারপর সেই ছবি ভাগ করে নেয় সোমা সমাজমাধ্যমে। ছবির ক্যাপশনে লেখেন, ‘এবছর সিঁদুরটা এরম ভাবে পড়ালি। নেক্সট ইয়ার আবার বিয়ে করব। যতবার বিয়ে করতে চাই বিয়ে ঠিক ততবার আমি রাজি সাত পাকে বাঁধবে। শুধু তুই চাই। হ্যাপি অ্যানিভার্সারি জান।’ স্বামীকে আবদার করে বাবান বলে ডাকেন সোমা। সেই নাম ধরেই সম্মোধন করে লেখেন তোকে জীবনেও ছেড়ে যাবো না। তোকে আমি ঠিক ফিরিয়ে আনব। ঠিক যেন দেবীর শাশ্বত অভয় বাণী। আমি আছি তো, চিন্তা কী তোর?
