‘গোপন কথা’ ফাঁস হতেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গ ছেড়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)। তারপরই তিনি জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) একক ভাবেই লড়াই করবে। দিন কয়েক আগে সমাজমাধ্যমে এমনই একটি পোস্ট করেন ওয়েইসি। সেই পোস্টে লেখা হয়, “মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চায় না মিম। আজ থেকে মিম (হুমায়ুন) কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে দিচ্ছে।”
আবার জোট ভাঙার সপ্তাহখানেক পর ভোট প্রচারে এ রাজ্যে এলেন, মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। আজ, ১৩ এপ্রিল রঘুনাথগঞ্জ ও কান্দিতে সভা রয়েছে তাঁর। সেই সভায় যোগদান করতে আসেন তিনি। আর এই দু’টি কেন্দ্রে মিম মনোনিত প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারও করবেন তিনি। কলকাতায় পা রেখেই তৃণমূলকে তোপ দাগলেন মিম প্রধান ওয়েইসি। তিনি বলেন, “কখনও তৃণমূল আমাদের বিজেপির বি-টিম বলে। কখনও আমাদের তৃণমূলের লোক বলে। আমরা কারও বি টিম নই। আমরা জনতার আওয়াজ। চাই না বাংলায় মুসলিমদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলুক। বাংলায় মুসলিমদের নেতৃত্বে একটি দল হোক, এগিয়ে যাক সেটাই চাই। নাহলে এখানকার মুসলিমদের শুধু গোলামি করে যেতে হবে। তাই আজ প্রচারে এসেছি। আমরা চেষ্টা করছি এখানে জেতার। দলের সকলেই জোরকদমে কাজ করছে”। এবার কি তবে বাংলায় খাতা খুলবে ওয়েইসির দল? সেই প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘গতবারও লড়েছিলাম। কিন্তু জয় আসেনি। এরপরও লড়াই চালিয়ে গিয়েছি।’
এদিকে এবারের ভোটে হুমায়ুনেরও যেমন পাখির চোখ ছিল মালদহ-মুর্শিদাবাদ, তেমনই মিমেরও। অতীতের ভোট পরিসংখ্যান দিকে নজর দিলে দেখা যাবে একাধিক রাজ্যে একেবারে সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরিয়েছিল ওয়েসির দল (Asaduddin Owaisi)। কিন্তু কী হবে বাংলায়? অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন, অর্থাৎ এআইএমআইএম ওরফে মিম যে কেবল একটি বিশেষ অঞ্চলের দল নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব ক্রমশ বিস্তার করছে—তার প্রমাণ মিলছে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে। বিহারের কিষাণগঞ্জ ও কাটিহারের মতো জেলাগুলিতে মিমের প্রভাব দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসন জিতে তারা যে চমক দিয়েছিল, ২০২৫ সালেও সেই সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে ওয়েইসির দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেখানে মিম এখন কোনও ক্ষণস্থায়ী শক্তি নয়, বরং সেখানে তাদের একটি স্থায়ী ও মজবুত জনভিত্তি তৈরি হয়েছে।

