নারী নিরাপত্তা নিয়ে পোস্টার, স্লোগান, সভা-সমিতির অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা যেন অন্য রকমই। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পরপর দু’টি ঘটনায় ফের প্রকাশ্যে এল নারী নির্যাতনের ঘটনা। এক দিকে নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অন্য দিকে নগ্ন ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গৃহ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দু’টি ঘটনাতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (South 24 Paragana)
নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নাবালিকাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন তিনি। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এলে খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। রবিবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। যদিও অভিযুক্তের দাবি, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। (South 24 Paragana)
অন্য দিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকায় একই ঘটনা। ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহ শিক্ষক। অভিযোগ, গৃহ শিক্ষক কিশোরীর নগ্ন ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে চাইতেন। কিশোরী রাজি না হওয়ায়, গত শনিবার রাতে মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের চেষ্টা করেন সেই অভিযুক্ত। সেই সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্তকে তাড়া করে। অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে তাকে একটি ঘরে রেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। শনিবার রাতেই ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। (South 24 Paragana)
পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি ঘটনারই তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—নারী সুরক্ষার এত আয়োজন, এত প্রচার, এত ‘সচেতনতা’—তবু কেন বারবার এমন অভিযোগই উঠে আসে? পোস্টারগুলো কি শুধু দেওয়ালে ঝুলেই থাকে, বাস্তবে তাদের কোনও কাজ নেই? (South 24 Paragana)

