Site icon Hindustan News Point

জলাশয় ভরাট থেকে জমি দখলের অভিযোগে নগরোন্নয়ন দফতরে বিজেপির চিঠি, বারুইপুরের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা

Baruipur Incident

দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে জলাশয় ভরাট, জমি জবরদখল, অবৈধ বহুতল নির্মাণ এবং বেআইনিভাবে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের অভিযোগ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দিল বিজেপি। অভিযোগের তির বারুইপুর পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রটি পূর্ত দফতর গ্রহণও করেছে।

বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তথা আইনজীবী গৌতম চক্রবর্তী এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের মদতে কিছু অসাধু প্রোমোটার এবং জমি মাফিয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন জলাশয়, পুকুর ও ডোবা ভরাট করছে। এরপর জমির প্রকৃতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই সেখানে বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। (Baruipur Incident)

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু প্রোমোটার পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের টাকা দিয়ে বেআইনিভাবে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করাচ্ছেন। পাশাপাশি অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত কভারেজ, অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং বেআইনি নির্মাণকাজ চালানোর মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এসব কাজ শুধু আইনবিরোধী নয়, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিজেপির দাবি, বারুইপুর পুরসভার রেকর্ডভুক্ত ছোট-বড় বহু জলাশয়, যেগুলি সরকারি নথিতে পুকুর, ডোবা বা বিল হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলি ভরাট করে প্লট বিক্রি এবং বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের কাছে। (Baruipur Incident)

তারাতলাকাণ্ডের প্রতিবাদ? না দলের মধ্যে কোন্দল! কেন তৃণমূল ছাড়লেন বিশ্বরূপ দে?

এ বিষয়ে বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায় চৌধুরী সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দফতর থেকে যদি কোনও চিঠি আসে বা আমার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তার উত্তর দেব। এই চেয়ারটি আমার কাছে অত্যন্ত পবিত্র। বারুইপুরবাসী শক্তি রায় চৌধুরীকে চেনে।”

অন্যদিকে, বাম নেতা সমীর মান্না বলেন, “তৃণমূলের আমলে বারুইপুর পুরসভায় বহু বেআইনি কাজ হয়েছে। পুকুর ভরাট থেকে শুরু করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।” (Baruipur Incident)

ইতিমধ্যে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় কি না এবং হলে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বারুইপুরবাসীর।


Exit mobile version