Site icon Hindustan News Point

বারুইপুরকাণ্ডে ‘গণধর্ষণ’ মামলা রুজু, ২ অভিযুক্তের ১৪ দিনের পুলিশি হেপাজত

baruipur incident case

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। বারুইপুরে নাবালিকাকে ‘ধর্ষণ’ ও ‘খুনের’ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩ জনকে। গতকাল থানায় খুন ও অপহরণের মামলা রুজু করেছিল নিহত নাবালিকার পরিবার। আজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা রুজু হলো। পাশাপাশি দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেপাজত দিল বারুইপুর আদালত। সঙ্গে জুড়ল আরও নতুন ধারা (baruipur incident case)।

মামলায় যে ধারাগুলি যুক্ত হয়েছে

১। ধারা ৬৫ – ধর্ষণ
২। ধারা ৭০(২) – গণধর্ষণ
৩। ধারা ১০৩(১) – খুন
৪। ধারা ২৩৮ – তথ্য-প্রমাণ লোপাট
৫। ধারা ৬১ – অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
৬। ধারা ৬– পকসো আইন
৭। ধারা ১৩৭(২) ও ১৪০(২) – নাবালিকাকে অপহরণ

সূত্রের খবর, প্রথমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে খুন ও অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এরপর গতকালই আরও এক অভিযুক্ত দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার সকালে বারুইপুর বাজার থেকে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। আজ অভিযুক্ত তিন অভিযুক্তের মধ্যে দুজনকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। বারুইপুর আদালত ওই দুই অভিযুক্তদের ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেয়। পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ জুলাই (baruipur incident case)। অপর অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে।

আদালতের সরকারি আইনজীবী জানান, “এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং অন্যান্য পরীক্ষা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।”

তবে এই মামলায় পকসো আইন যুক্ত হওয়ায়, অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়াও এদিন অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালতের নির্দেশ আপাতত রিজার্ভ রয়েছে।

ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবালিকার শরীরে যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্নও মিলেছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড় ও কামড়ের দাগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, নাবালিকার মাথায় গুরুতর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যা কোনও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা অথবা শক্ত কোনও জায়গায় মাথা ঠুকে দেওয়ার ফলে হয়ে থাকতে পারে।


Exit mobile version