দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Incident) প্রকাশ্যে এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। সূত্রের খবর, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল। এরপর অচেতন অবস্থায় তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে, পুকুরে ফেলার সময়েও নাবালিকা জীবিত ছিল। মাথার আঘাত এবং জলে ডুবে যাওয়ার ফলেই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
(Baruipur Incident) ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবালিকার শরীরে যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্নও মিলেছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড় ও কামড়ের দাগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, নাবালিকার মাথায় গুরুতর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, যা কোনও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা অথবা শক্ত কোনও জায়গায় মাথা ঠুকে দেওয়ার ফলে হয়ে থাকতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং’। অর্থাৎ, নাবালিকাকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার সময় সে জীবিত ছিল। ময়নাতদন্তে তার পাকস্থলী ও ফুসফুসে জল পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, মাথায় আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পরে জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে।
বারুইপুরে উত্তেজনার সামলাতে কড়া প্রশাসন, বারুইপুর-নরেন্দ্রপুর-সোনারপুরে জারি ১৬৩ ধারা
উল্লেখ্য, (Baruipur Incident) রবিবার সকালে বারুইপুরের ধপধপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকা সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য উপহার কিনতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সে। দেহ উদ্ধারের পরেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পথ অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (Baruipur Incident) তিনজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তদন্তে নেমে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। IG কঙ্করপ্রসাদ জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে, মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের ভবানী ভবনে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় নতুন করে সামনে আসা ময়নাতদন্তের তথ্য রাজ্য জুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৪ বছরেও মেলেনি বিচার, বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার ফাইল খোলার দাবি পরিবারের

