দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরে ‘আদি বনাম নব্য’ সংঘাত এবার প্রকাশ্যে চলে এল। (Baruipur Purba BJP Clash) পুরনো বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারী সুমন নস্কর যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির এসসি মোর্চার সদস্য। (Baruipur Purba BJP Clash) তাঁর দাবি, বারুইপুর পূর্ব ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সুরেশ বৈদ্যের মদতেই শনিবার গভীর রাতে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
সুমন নস্করের অভিযোগ, লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় তৃণমূলের একাংশ বিজেপিতে যোগ দিতে শুরু করে। সেই প্রক্রিয়ায় “দলের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে” বাইরের লোকেদের দলে আনা হচ্ছে বলেই তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। (Baruipur Purba BJP Clash) আর সেই প্রতিবাদের জেরেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
সুমন নস্কর বলেন, “আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। বিজেপির নিজস্ব আদর্শ ও নীতি আছে, সেটা নষ্ট হতে দিতে চাইনি। এরপর আমাকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।” (Baruipur Purba BJP Clash) তাঁর আরও অভিযোগ, হামলার ঘটনায় মণ্ডল সভাপতি সুরেশ বৈদ্য ছাড়াও তাঁর বাবা দিলীপ বৈদ্য, দাদা সুভাষ বৈদ্য, বুথ সভাপতি প্রদ্যুত মণ্ডল, তার বাবা রামপদ মণ্ডল ওই বুথের মণ্ডল সম্পাদক তন্ময় সর্দার, তাঁর বাবা শঙ্কর সর্দার, ভাই তুষার সর্দার এরা সকলে জড়িত। মারধরের ভিডিয়ো এবং হুমকির প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সুমন।
অভিযোগকারীর দাবি, তাঁকে বলা হয়েছে থানায় অভিযোগ জানালে খুন করে দেওয়া হবে। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে নিরাপত্তার অভাবে তিনি বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।
ঘটনার পর রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সুমন নস্কর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
যদিও এখনও পর্যন্ত মণ্ডল সভাপতি সুরেশ বৈদ্যের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

