রাতের অন্ধকারে ভূমি সংস্কার দফতর থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে (Bhangar News)। থানায় অভিযোগ জানাতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শেষে পুলিশেষ হস্তক্ষেপ বন্ধ হয় পুকুর ভরাটের কাজ। ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকের বিজয়গঞ্জ বাজার সংলগ্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভাঙড়ের ভূমি সংস্কার দফতরের ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুরটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই পুকুরটিতে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। অভিযোগ, হঠাৎই রাতের অন্ধকারে ডাম্পার ভর্তি মাটি এনে জেসিবি দিয়ে পুকুর ভরাট করার কাজ শুরু হয়।
রাতেই খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ভরাটের কাজ বন্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। বেআইনি কাজের সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিজয়গঞ্জ বাজার লাগোয়া স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক জমি ইতিমধ্যেই দখল হয়ে গিয়েছে। সেই সব জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পুকুরটিও ভরাট করে প্রমোটিংয়ের পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের অভিযোগ, পুকুরটি স্বাস্থ্য দফতের সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও শাসকদলের মদতে দুষ্কৃতী ও মাটি মাফিয়ারা ভরাটের কাজ চালাচ্ছিল। বিজেপির দাবি, শাসকদলের মদত রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে পুকুর ভরাট স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে আইএসএফ।
ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও যোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছে তৃণমূল। দল ওই জাতীয় ঘটনা সমর্থন করে না বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে— যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয় সংরক্ষণের বার্তা দিচ্ছেন, সেখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এভাবে বেআইনি পুকুর ভরাট চলতে পারে?











