স্কুলের দেওয়ালে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ এবং এপিজে আবদুল কালামের ছবি। কয়েক বছর আগে সাঁকরাইলের দক্ষিণ দুইলা হাইস্কুলের পড়ুয়ারাই দেওয়াল সাজাতে ওই ছবিগুলি এঁকেছিল। সেই ছবি আজও দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে।পথ চলতি মানুষের দারুণভাবে নজর কাড়ছিল স্কুলের বাইরের দেওয়ালে আঁকা এই ছবিগুলি। কিন্তু সেই শিল্পকর্মকে কালিমালিপ্তের চেষ্টা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির ওপর বিজেপির স্টিকার। (BJP News)
এই ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও ছবি সাঁটানোর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্থান নিউজ পয়েন্ট।
অভিযোগ, সোমবার রাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির উপরে বিজেপির একটি স্টিকার লাগানো হয়। তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি-সহ দলের স্লোগান লেখা ছিল। স্টিকার লাগোনো সেই ছবি তুলে কেউ বা কারা সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে দেন। মুহূর্তের মধ্যে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।
স্কুলের এক শিক্ষিকা সমাজ মাধ্যম পোস্টে দেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির উপর কে বা কারা বিজেপির স্টিকার লাগিয়েছে। গোটা ছবিটাই কুৎসিত চেহারা নিয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, সমাজ মাধ্যম থেকে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। আগের দিন স্কুল থেকে বেরোবার সময়ও নজরে আসেনি। তবে পরেরদিন স্কুলে ঢোকার সময় তারা দেখেন স্টিকার তুলে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এটা অত্যন্ত অপমানজনক বলে ক্ষোভ প্রকাশ প্রধান শিক্ষকের। তিনি আরও বলেন, স্কুলের ভিতরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বাইরের কোনও ক্যামেরা না থাকায় বোঝা যায়নি কে ওই স্টিকার লাগিয়েছিল বা খুলেছে।
ভাইরাল হতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই ঘটনার জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, এটা বাংলার সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা।
তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও যোগ নেই। এ জাতীয় ঘটনা দল সমর্থন করে। তৃণমূলের লোকজনই এ হেন কাজ করে তাদের দোষারোপ করছে।
ভোটের আহবে রাজনৈতিক দলগুলি প্রচারটা স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে স্কুলের দেওয়ালে আঁকা মণীষীদের ছবিকে কালিমালিপ্ত করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।








