Site icon Hindustan News Point

Jhalmuri Celebration: ঝালমুড়িতে ‘ঝাল’ বার্তা! ব্রিগেডে উৎসবের মেজাজে বিজেপি কর্মীরা

Jhalmuri Celebration

ব্রিগেড মানেই এক অর্থে রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শন। কিন্তু এবারের ব্রিগেডে রাজনীতির পাশাপাশি আলাদা করে নজর কাড়ল বাঙালির একেবারে ঘরের খাবার— ঝালমুড়ি (Jhalmuri Celebration)। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আবহে শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের বাইরে ও ভিতরে যেন ঝালমুড়ির উৎসব শুরু হয়ে যায়। হাতে বিজেপির পতাকা, মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান আর অন্য হাতে ঠোঙাভর্তি ঝালমুড়ি (Jhalmuri Celebration)— এমন ছবিই ধরা পড়ল ব্রিগেডে চত্বরে।

বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশের দাবি, এই ঝালমুড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তাও। এক সমর্থক হেসে বলেন, “প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। আজ বাংলায় পরিবর্তনের দিনে আমরাও ঝালমুড়ি খাচ্ছি।” পাশেরই এক কর্মীর কটাক্ষ, “ঝালমুড়ির ঝালে দিদি জ্বলুক ! সুযোগ পেলে দিদির কাছেও ঝালমুড়ি পাঠাব।”

ব্রিগেডের প্রবেশপথে এদিন চোখে পড়ে এক অন্য ছবি। বাঁশের খুঁটি ঘেরা অস্থায়ী স্টলের সামনে লম্বা লাইন। কেউ বাড়তি লঙ্কা নিচ্ছেন, কেউ চানাচুর বেশি চাইছেন, কেউ আবার বাদাম ছাড়া ঝালমুড়ির (Jhalmuri Celebration) অর্ডার দিচ্ছেন। বিক্রেতাদের কথায়, রাজনৈতিক সভা অনেক দেখেছেন, কিন্তু ঝালমুড়ির এমন চাহিদা খুব কমই দেখা গিয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক খোঁচাই নয়, এদিনের ব্রিগেডে ছিল উৎসবের আমেজও। কারণ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনেই নতুন সরকার শপথ। ফলে গোটা অনুষ্ঠানে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া ছিল স্পষ্ট। ঝালমুড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলে দেখা মিলেছে সীতাভোগ ও মিহিদানার। সকাল থেকেই সেই সব স্টলে উপচে পড়ে ভিড়। কেউ সেলফি তুলেছেন, কেউ আবার মিষ্টি হাতে উদযাপনে মেতেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও যেন মেলায় পরিণত হয়েছিল গোটা ব্রিগেড চত্বর। গেরুয়া আবির আর স্লোগানে বারবার উত্তাল হয়ে উঠছিল ব্রিগেড। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর কর্মীদের উচ্ছ্বাস আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ছাত্র রাজনীতি থেকে বিরোধী দলনেতা হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, কেমন ছিল শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সফর?: Jhalmuri Celebration: ঝালমুড়িতে ‘ঝাল’ বার্তা! ব্রিগেডে উৎসবের মেজাজে বিজেপি কর্মীরা

অন্যদিকে মঞ্চের বাইরে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনই সাংস্কৃতিক আবহও ছিল চোখে পড়ার মতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে স্মরণ করে বিশেষ বার্তা দেন রাজ্যপালও। লোকভবনের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানানো হয়, “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে সমগ্র জাতি তাঁর চরণে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছে। তাঁর দূরদৃষ্টি ‘সোনার বাংলা’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর পথ দেখাক।”

রাজনীতির মঞ্চে অনেক সময় বড় বক্তৃতার থেকেও ছোট ছোট ছবি বেশি আলোচনায় উঠে আসে। এবারের ব্রিগেডে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল এক ঠোঙা ভর্তি ঝালমুড়ি (Jhalmuri Celebration)। বাংলার চিরচেনা রাস্তার খাবারই যেন এদিন হয়ে উঠল রাজনৈতিক উদযাপনের নতুন প্রতীক।

মঞ্চে কারা

মঞ্চে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তী-সহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।

 নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ শুভেন্দু অধিকারীর, ব্রিগেডের মাঠে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী সহ ২০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী: Jhalmuri Celebration: ঝালমুড়িতে ‘ঝাল’ বার্তা! ব্রিগেডে উৎসবের মেজাজে বিজেপি কর্মীরা
Exit mobile version