Site icon Hindustan News Point

Central forces meet: ‘সামরিক কায়দায় দখল’, বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমাবেশের তীব্র নিন্দা তৃণমূলের

Central forces meet

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে কলকাতায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPFs) প্রধানদের এক ‘নজিরবিহীন’ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এই বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আসন্ন দুই দফার নির্বাচনে প্রায় ২ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর সল্টলেকে অবস্থিত Central Reserve Police Force-এর দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এই সম্মেলনে CAPF-এর ডিরেক্টর জেনারেলদের পাশাপাশি West Bengal Police-এর শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কোথাও অশান্তি হলে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে জোট বেঁধে ‘integrated security grid’গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচটি কেন্দ্রীয় বাহিনী—Central Reserve Police Force (CRPF), Border Security Force (BSF), Central Industrial Security Force (CISF), Indo-Tibetan Border Police (ITBP) এবং Sashastra Seema Bal (SSB)—সহ ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (IRBs) ও বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের সহায়ক ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বিশাল সমাবেশ কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে (Central forces meet), এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এটি একটি সাধারণ বৈঠকের চেয়ে ‘সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখলের’ মতো পরিকল্পনা।

প্রকৃতপক্ষে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ সিএপিএফ-এর সমস্ত ইউনিটের প্রধানদের নিয়ে এমন যৌথ বৈঠক অতীতে কোনও বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেখা যায়নি। সিএপিএফ-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়ছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য নির্বাচনমুখী একটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল “অভূতপূর্ব”। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল।

কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং বাহিনীর ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে রাজ্যে “সামরিক স্টাইলের” শাসন জারি করতে চাইছে এবং বেছে বেছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিশানা করছে। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মহুয়া লিখেছেন, “পহেলগাঁও হামলার প্রথম বছরে দয়া করে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে তামাশা করবেন না। বিজেপি এবং জ্ঞানেশ কুমার (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) পূর্ণ সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করতে সিএপিএফ-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাংলায় নিয়ে আসুন!”

ইতিমধ্যে, পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড সংখ্যক ২.৪ লক্ষ সিএপিএফ কর্মী (২,৪০০ কোম্পানি) মোতায়েনের বিষয়টি সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। এই প্রথম কোনও রাজ্যে নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।


Exit mobile version