বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূল শিবিরে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল তা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। একের পর এক সহযোদ্ধারা হাত ছাড়ছেন তৃণমূল সুপ্রিমোর। এবার আবার দিদির পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মাত্র এক মাস আগেই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে সে দায়িত্ব থেকেই শনিবার ইস্তফা দিলেন তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূলের বাকি সমস্ত পদও ছেড়ে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। পদত্যাগের পরেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
পুজো কার্নিভাল হোক বা একুশে জুলাই বিগত বছরগুলিতে সর্বত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূলের হারের পর দলে ভাঙন দেখা দিলেও সবসময় দিদির পাশেই থেকেছেন চন্দ্রিমা। তবে তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবার সেই মমতারই হাত ছাড়লেন তিনি। অভিমানী চন্দ্রিমার অভিযোগ, সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?’ এই মন্তব্যে তাঁর আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে মনে করেন চন্দ্রিমা। তাঁর কথায়, এতদিনের রাজনৈতিক জীবনের পর নিজের বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা তাঁকে অত্যন্ত আহত করেছে। আর সেই কারণেই তিনি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। (Chandrima Bhattacharya’s Statement)
একই সঙ্গে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী জানান, এতদিন তিনি একাধিক দফতরের দায়িত্বে ছিলেন তাই তখন মুখ খোলেননি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন নাকি তিনি বাজেট সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। বাজেট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই জানানো হতো যে কী বলতে হবে। তাঁর কথায়, “কোনও আলোচনা হতো না, বাজেট পেশের আগে জানান হতো কী বলতে হবে। আমার সঙ্গে আলোচনা করে যে বাজেট তৈরি হয়েছে তা নয়। জনতা যখন জেনেছেন তার কয়েকঘণ্টা আগে আমি জানতাম।”
এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর তাকে কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ বলেন, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন অনেকগুলি পদে চন্দ্রিমা ছিলেন তখন কেন অভিমান হয়নি? এখন উনি অভিমান দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে পাল্টা চন্দ্রিমা বলেন, কুনাল ঘোষকে তিনি সম্মান করেন। তবে তিনি তাঁর আনুগত্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারেন না। তিনি দলের প্রতি কতটা অনুগত ছিলেন তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো করেই জানতেন। তবে যেখানে বিশ্বাস, কনফিডেন্স শেষ হয়ে যায় সেখানে কাজ করার আর কোনও মানে হয় না। (Chandrima Bhattacharya’s Statement)
মমতার হাত ছাড়লেন অভিমানী চন্দ্রিমা, সম্পর্ক ছিন্ন করেই বিদ্রোহী শিবিরে
উল্লেখ্য, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠানোর পরই বিধানসভায় ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যদিও সেখানে দল নিয়ে কোনও কথা হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, তিনি মূলত বিধায়ক হিসেবে পেনশনের নথি জমা দেওয়ার কাজেই বিধানসভায় গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি শাসক দলের ঘরে না গিয়ে বিরোধী শিবিরের কক্ষেই বসেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বলেন, “কালের যাত্রায় সবাইকে পা মেলাতে হয়, আমিও ব্যতিক্রম নই।”
আগেই কালীঘাট তৃণমূলের পাশ থেকে সরে গিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, মালা রায়েরা এবার নতুন সংযোগন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যদিও প্রাক্তন মন্ত্রী বলেছেন কেবল মমতার কথায় আঘাত লেগেছে বলেই এই পদত্যাগ। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অনেক দিন ধরেই দলত্যাগ করার পরিকল্পনা ছিলই, শুক্রবার মমতার একটা ফোনকল শুধুই একটা ছুঁতো। এই সেই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করেছেন চন্দ্রিমা। (Chandrima Bhattacharya’s Statement)

