Site icon Hindustan News Point

শুরুতেই হোঁচট, ‘জন কল্যাণ শিবির’ ঘিরে রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় বিশৃঙ্খলা

Jan Kalyan Shivir

রাজ্যে পালা বদলের একমাস কেটে গিয়েছে। প্রতিশ্রুতি মতো একে একে রাজ্যে জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পগুলি দিতে শুরু করেছে বিজেপি সরকার। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। আজ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ‘জন কল্যাণ শিবির’ কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এই শিবির শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই হোঁচট খেতে হলো সরকারকে। এই ‘জন কল্যাণ শিবির’ (Jan Kalyan Shivir) ঘিরেই বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার অন্তর্গত রবীন্দ্র ভবনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই সরকারের তরফে তাঁদের জানানো হয়, আজ অর্থাৎ ১৫ তারিখ এই রবীন্দ্র ভবনে ‘জন কল্যাণ শিবির’- (Jan Kalyan Shivir) এর আয়োজন করা হয়। সেই মতো সকাল থেকেই এই রোদে-গরমে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পর তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন সরকারি আধিকারিকেরা। তাঁরা জানান, আজকে এই রবীন্দ্র ভবনে বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো এই সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা দেওয়া হবে না। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ।

একজন বলেন, “সকাল ৮টা থেকে রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। লাইনে দাঁড়ানোর পর বলা হচ্ছে আজ কাজ হবে না। ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এমনকি আয়ুষ্মান ভারতের রেজিস্টারের জন্য ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে।”

রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: দেবারুণ ভট্টাচার্য বলেন, “আয়ুষ্মান ভারতের দুটি ফর্ম রয়েছে। কারা পাবেন আর কারা পাবেন না সব তথ্য ওই ফর্মে দেওয়া আছে। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের জিজ্ঞাসা করে নেবেন। ফর্মে দেওয়া সব তথ্য মিলিয়ে তাঁরা যদি সত্যিই পাওয়ার যোগ্য হন তবে এই শিবিরে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের ফর্ম সাবমিট করে দেবেন।”

রাজ্যের মানুষ ১৫ বছর ধরে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার পালাবদলের পর সেই সরকারি প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু হলেও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নতুন সরকারকে।

রাজ্য প্রশাসনের মতে, বহু ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সেই সমস্যা দূর করতে জেলা ও ব্লক স্তরে বিশেষ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিবিরগুলিতে উপস্থিত বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা, যাতে আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।


Exit mobile version