নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ছিল তীব্র কৌতূহল। বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল — পালাবদলের পরে কি বন্ধ হয়ে যাবে (Lakshmir Bhandar) ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘যুবশ্রী’র মতো জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প? যাঁদের সংসার মাসের শেষে এই টাকার উপর নির্ভর করে, তাঁদের মনে ছিল অজানা আশঙ্কা। বিশেষ করে ভোটের প্রচারে বারবার এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সেই জল্পনা, ভয় এবং অনিশ্চয়তার আবহেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। প্রায় গোটা রাজ্যের নজর ছিল এই বৈঠকের দিকে। কারণ, এই বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হওয়ার কথা ছিল নতুন সরকারের প্রশাসনিক দিশা।
আর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্যত বড় বার্তা দিলেন শুভেন্দু। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, “চালু থাকা কোনও সামাজিক কল্যাণকর কর্মসূচি এই সরকার বন্ধ করবে না।” (Lakshmir Bhandar)
এই একটি বাক্যেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “৩০ বছর আগের হোক বা ১০ বছর আগের হোক, কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। আমরা ভোটের সময়ও সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।”
তবে এখানেই থামেননি শুভেন্দু। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প চলবে ঠিকই কিন্তু এবার পুরো প্রক্রিয়ায় আনা হবে কড়া নজরদারি এবং স্বচ্ছতা। তাঁর কথায়, “সব সুবিধা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেওয়া হবে। কোনও মৃত ব্যক্তি, কোনও অভারতীয় বা অবৈধ ব্যক্তি সরকারি সুবিধা পাবেন না।”
রাজ্যে চালু হলো আয়ুষ্মান ভারত, আপনি পাবেন? জেনে নিন আবেদনে শর্ত: Lakshmir Bhandar: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ? প্রথম বৈঠকের পরেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুরএই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়ো নাম, মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। এবার সেই জায়গাতেই কড়া অবস্থান নিতে চাইছে নতুন সরকার।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে (Lakshmir Bhandar) ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’। কারণ, এই দুই প্রকল্প সরাসরি প্রভাব ফেলে কোটি মানুষের জীবনে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা প্রতি মাসে এই আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল। তাই সরকার বদলের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল— এই সুবিধা কি বন্ধ হয়ে যাবে? সোমবারের বৈঠকের পর অন্তত সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর হল।
শুধু পুরনো প্রকল্প চালু রাখাই নয়, কেন্দ্রীয় একাধিক প্রকল্পের সঙ্গেও রাজ্যকে যুক্ত করার ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, ‘উজ্জ্বলা যোজনা’, ‘পিএম শ্রী’-র মতো প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের দ্রুত আবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ দিন মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বক্তব্যে আরও একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে— নতুন সরকার নিজেদের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি গড়তে চাইছে “স্বচ্ছতা” এবং “ভরসা”-র উপর দাঁড় করিয়ে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এই সরকার আমিত্বে চলে না, নীতিতে চলে।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “ভয় আউট, ভরসা ইন” বার্তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প বন্ধ না করার ঘোষণা যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার থেকেও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ “কারা সুবিধা পাবেন না” এই বার্তা। কারণ, এর মধ্যেই সীমান্ত, অনুপ্রবেশ এবং বেনিফিশিয়ারি তালিকা নিয়ে ভবিষ্যতের প্রশাসনিক রূপরেখার ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।
এখন দেখার, বাস্তবে এই “স্বচ্ছতার অভিযান” কতটা কড়াভাবে কার্যকর করে নতুন সরকার। তবে আপাতত একটা বিষয় পরিষ্কার যে বাংলার বহুল আলোচিত সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ হচ্ছে না।
অপেক্ষার অবসান, জুন মাস থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা: Lakshmir Bhandar: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ? প্রথম বৈঠকের পরেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
