হাড়কাঁপানো শীতে কাবু গোটা জঙ্গলমহল। ঝাড়গ্রাম জেলায় শীতের দাপট গত কয়েক দিনে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে এই কনকনে ঠান্ডার মাঝেও অরণ্যশহর ও সংলগ্ন গ্রামগুলিতে প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে টাটকা খেজুর রস। শীত বাড়তেই জঙ্গলমহল জুড়ে এখন খেজুর রস সংগ্রহের ধুম লেগেছে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মেঠো পথে রসের হাঁড়ি নামানোর ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার আমেজ নিতে নিতেই স্থানীয় বাসিন্দারা মজেছেন এই মিষ্টি রসের স্বাদে। (Junglemahal)
এই মরসুমে খেজুর রসের পাশাপাশি বাজারে খেজুর গুড়ের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। শরীর গরম রাখতে এবং শীতের ক্লান্তি দূর করতে অনেককেই রস পান করতে দেখা যাচ্ছে। জেলার বাজারগুলিতে এখন নলেন গুড় আর পাটালির গন্ধে ম ম করছে বাতাস। তীব্র ঠান্ডা সত্ত্বেও এই রস ও গুড়কে কেন্দ্র করেই অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। মূলত ঘরবন্দি থাকতে চাইলেও, কেবল রসের টানে এবং প্রাত্যহিক প্রয়োজনে মানুষকে বাইরে বেরোতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে আগুন পোহানোর পর্ব। (Junglemahal)
ঠান্ডার প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে, জেলার সাধারণ জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার পুরু চাদরে ঢাকা থাকছে রাস্তাঘাট। দৃশ্যমানতা কমে আসায় ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং অফিসযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বেলা বাড়লেও রোদের তেজ কম থাকায় হাড়কাঁপানো উত্তুরে হাওয়ার হাত থেকে নিস্তার মিলছে না। শীতের কামড় থেকে বাঁচতে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মানুষজনকে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। (Junglemahal)
আবহাওয়া দফতর-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন জঙ্গলমহল এলাকায় এই শৈত্যপ্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামার সম্ভাবনা থাকায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় রাশ টানতে প্রশাসনের তরফেও সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে শীত ও কুয়াশার দাপটে নাজেহাল অবস্থা হলেও, খেজুর রসের মিষ্টি স্বাদই এখন ঝাড়গ্রামবাসীর একমাত্র স্বস্তির অবলম্বন। (Junglemahal)

