অনুব্রত মণ্ডলকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। তবে শর্ত আছে একটাই। তৃণমূলের আগে অনুব্রত মণ্ডল কংগ্রেসে ছিলেন। মমতার হাত ধরে তিনিও জোড়াফুলে চলে আসেন। অনুব্রত বেসুরো হতেই তাঁর কংগ্র্সে ফেরা নিয়ে নানান জল্পনা চলছে বীরভূমের মাটিতে। সেই জল্পনা এবার আরও গভীর হল। রবিবার বিকেলে রামপুরহাটে যোগদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে অনুব্রত মণ্ডলের দলে ফেরার সম্ভাবনা বা তাঁকে গ্রহণ করার বিষয়ে মুখ খোলেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। (Anubrata Mondal)
রবিবার রামপুরহাটে যোগদান কর্মসূচি করে কংগ্রেস। সেখানে প্রায় সাড়ে তিনশো রাজনৈতিক কর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন। দু’ মাস আগে কংগ্রেস ছেড়ে অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন রামপুরহাট শহরের কংগ্রেস নেতা শাহজাদা হোসেন কিনু। তিনিও ঘরওয়াপসি করেন। অন্যদিকে দলের জেলা কমিটির সদস্য অমল শেখের নেতৃত্বে ২, ৭, ১০, ১১ ও্ ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন। একইভাবে নারায়ণপুর ও বড়শাল অঞ্চল থেকেও এদিন অনেকে হাত শিবিরে নাম লেখান। অভিজিৎবাবু অনুব্রত মণ্ডল প্রসঙ্গে বলেন, ‘উনি কংগ্রেস কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করে গিয়েছেন। কর্মীরা যদি তাঁকে ক্ষমা করে তাহলে দলে নিতে আপত্তি নেই।’ (Anubrata Mondal)
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিজিৎবাবু বলটি অনুব্রত মণ্ডলের কোর্টেই ঠেলে দিয়েছেন। আসলে অনুব্রত একটা মন্তব্যেই এই সমস্ত কিছুর পিছনে। কারণ তিনি, বলেছিলেন, কংগ্রেসকে চটানো উচিত হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা হয়েছেন। খারাপ লাগছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালবাসতাম। আমি কেন অনেকেই ভালবাসতেন। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষদিকে কার পাল্লায় পড়লেন, তা আমরা বুঝতে পারলাম না। আমার হাতে শেষদিকে ঘি খাননি মমতা। এবার আমাকে ভোটের দায়িত্ব দেয়নি। কোর কমিটির বৈঠকে বললেন কোনও বিধায়ক ডাকলে আপনি যাবেন। আগ বাড়িয়ে ভোট করতে যাওয়ার প্রয়োজন কী আমার” (Anubrata Mondal)
তৃণমূল ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অনুব্রত। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। সম্মান পেলে দল করব। সম্মান না পেলে দল করব না।” দলের ভরাডুবির পিছনে আইপ্যাক রয়েছে বলে দাবি করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর আরও দাবি, কংগ্রেসকে চটানোই ভুল হয়েছে। তৃণমূল নেতা বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠার শুরুতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী হলেন, যখন শতাব্দী রায় জিতলেন বা ২০১১ সালে দল যখন ক্ষমতায় এল, সেই সময় কোনও আইপ্যাকের প্রয়োজন হয়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকারে এসেছিলাম । কংগ্রেসকে চটানোটাও আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে।”
অভিষেককে নিশানা করে অনুব্রত বলেন, “২০০৯ সালে যখন আমরা প্রথম লোকসভা ভোটে জিতি তখন কী আমাদের কাছে I-PAC ছিল? ২০১১, ২০১৪, ২০১৯-এ -PAC ছিল? দুনিয়ার সব জায়গা থেকে টাকা তুলেছে I-PAC, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে I-PAC। আমি তো অভিষেককে দেখে রাজনীতি করি না। দল তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন করে উঠে এসেছেন। কে এনেছে I-PAC-কে জানি না, দলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।” (Anubrata Mondal)
আরও পড়ুন :- রাজ্য জুড়ে ‘জেটি কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার যোগ নিয়ে প্রশ্ন অর্জুন সিংয়ের

