Site icon Hindustan News Point

তারাতলায় দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ৪, বহু শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা, রাতেও চলবে উদ্ধারকাজ

Taratala accident

তারাতলার দুর্ঘটনা প্রায় ১০ বছর আগে পোস্তায় ঘটে যাওয়া বিবেকানন্দ উড়ালপুলের ঘটনাকে উসকে দিল। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। তাঁদের মধ্যে দু’জনের নাম জানা গিয়েছে। একজনের নাম কৃষ্ণ চৌধুরী। আরেকজনের নাম রোহিত চৌধুরী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ১২ থেকে ১৫ জন এখনও আটকে রয়েছেন ধ্বংসস্তূপের নিচে। আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করা হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। জল ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে চলবে উদ্ধারকাজ। সেই কারণে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে (Taratala accident)।

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী (Taratala accident) বলেন, “চলতি বছর এই বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেহারা ব্রাদার্স এই জমির মালিক। প্রাথমিক ভাবে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, প্ল্যানে ত্রুটি ছিল। পরবর্তী রিপোর্ট পেলে জানাব কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

১২টা ৭ মিনিটে তারাতলার দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং দমকল দ্রুত উদ্ধারকাজ না শুরু করলে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও লম্বা হতো। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, দেরি না করে সেনা নামাব। ৩টে ১৫-৩টে ২০ মিনিট থেকে তারা উদ্ধার শুরু করে। ১৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁরা চিকিৎসাধীন। সেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। ওয়ার ফুটিংয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। NDRF এবং সেনা জানিয়েছে, যে ১২-১৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। জল এবং অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। আমরা আশাবাদী তাঁদেরও দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। নির্মাণের সময় এটি ধসে পড়ে। শ্রমিকরা এটি মেরামত করে কাঠামোটি পুনরায় জোড়া লাগানোর চেষ্টায় গুদামের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে পুরো টিনের চালাটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বহু লোক আটকে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালেও অনান্য দিনের মতো কাজ চলছিল। ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেই লোহার বিম নড়ে যায়, কয়েকটা জায়গায় ভেঙে পড়ে। সেসময়ে সেটা কোনওভাবে ঠিক করে শেডের নীচে ভিতরে ঢুকে আবার গোটা কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন কর্মীরা। তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা টিনের শেড (Taratala accident)।

আরও পড়ুন: বজ্রাঘাতের বিভীষিকা মুর্শিদাবাদের গঙ্গার ঘাটে, মৃত্যু ৪; আহত ৩০-এর বেশি

বর্তমানে, ক্রেনের সাহায্যে লোহার বিমগুলো কেটে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লোহা ও কংক্রিট কাটার জন্য গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা উপর থেকে নীচে ছিদ্র করার (ভার্টিক্যাল ড্রিলিং) মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যান। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ পিটিআই-কে বলেছেন, “আমরা অবশ্যই দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনও অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখব। তবে এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হল যত বেশি সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা।”


Exit mobile version