রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দফতরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানালেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। একদিকে যেমন আবাসন প্রকল্পের উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা দ্রুত প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা পঞ্চায়েতস্তরের হাজার হাজার পদে নিয়োগ এবং কর্মী বদলির প্রক্রিয়াও শুরু হতে চলেছে বলে জানান মন্ত্রী।
বৃহষ্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানান, আবাসন প্রকল্পে কারা বাড়ি পাবেন, সেই তালিকা তৈরির কাজ এখন জোরকদমে চলছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ব্লক এবং পঞ্চায়েতস্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকৃত গৃহহীন এবং যোগ্য পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা পক্ষপাতিত্ব নয়, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতেই উপভোক্তাদের নির্বাচন করা হবে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিন মন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অধীনে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আবার সক্রিয় করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGA), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G), প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY), রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান (RGSA) এবং জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি (NSAP) সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন-নির্ভর প্রকল্প।
দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) আরও বলেন, গ্রামীণ সড়ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় বড় পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১,১০০ জন PRI (Panchayati Raj Institution) কর্মীকে বদলি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত থাকার ফলে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই পদক্ষেপ। এই বদলির মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থাকবে এবং কাজের গতি বাড়বে বলেও আশাবাদী সরকার।
এর পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণের বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন দিলীপ (Dilip Ghosh)। মন্ত্রীর দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার পদ খালি রয়েছে। এর ফলে বহু উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মীসংকট কাটিয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন সরকারের লক্ষ্য।
এত্তা জঞ্জাল! দুর্গাপুরকে স্বচ্ছ রাখতে একাধিক উদ্যোগ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সময়মতো সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত কর্মী থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই নিয়োগ, বদলি এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবাসন প্রকল্প, গ্রামীণ রাস্তা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে যাতে কোনও বাধা না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আবাসন প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা চূড়ান্ত করা, পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলি এবং হাজার হাজার শূন্যপদে নিয়োগসহ এক গুচ্ছ বড় উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার প্রশাসনিক এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

