Site icon Hindustan News Point

Dol Tragedy in Ganga: কালিয়াচকের পর ভাটপাড়া, দোলের দিন গঙ্গায় নেমে তলিয়ে গেল একাধিক

Dol Tragedy in Ganga Six Drown in Kaliachak and Bhatpara

দোলের রং মুছতে না মুছতেই গঙ্গায় ঘটল দুই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মালদার কালিয়াচক ও উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়েছেন একাধিক মানুষ। কোথাও মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে, কোথাও এখনও মিলছে না খোঁজ। উৎসবের আবহে এমন পরিণতিতে স্তব্ধ দুই প্রান্তের গঙ্গাপাড়। (Dol Tragedy in Ganga)

মালদা জেলার কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকের বীরনগর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরনগর রাধানাথ টোলা গ্রামে মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ ঘটে দুর্ঘটনাটি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটন ঘোষের দুই মেয়ে ইশা ঘোষ (৭) ও নন্দিনী ঘোষ (১১) মায়ের সঙ্গে বীরনগর সরকার টোলা গঙ্গা ঘাটে স্নান করতে যায়। স্নান সেরে বাড়ি ফিরলেও কিছুক্ষণ পর আবার নদীর দিকে যায় তারা। অভিযোগ, গভীর জলে নামতেই তলিয়ে যায় দুই বোন।

পরিবারের খোঁজাখুঁজির পর খবর দেওয়া হয় প্রশাসনকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পশ্চিমবঙ্গ সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল ও বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে ইশাকে উদ্ধার করে বেদ্রাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নন্দিনীর খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় শোকস্তব্ধ বীরনগর রাধানাথ টোলা।

অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বলরাম সরকার গঙ্গার ঘাটে দোল খেলার পর স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান চার জন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৈকত নন্দী (৩২) ও সৌরভ নন্দী (২৭), ভাটপাড়া পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাদরাল গভর্মেন্ট কলোনির বাসিন্দা, এবং বছর কুড়ির দীপশিখা দাস রজক, যিনি কলকাতার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে—এই তিন জন স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে যান। সেই সময় গঙ্গাপাড়ে বসে ছিলেন সৌরভ সরকার, ভাটপাড়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিন জনকে ডুবে যেতে দেখে তিনি উদ্ধার করতে ঝাঁপ দেন, কিন্তু তাঁদের নাগাল না পেয়ে তিনিও তলিয়ে যান।

নিখোঁজ চার জনের খোঁজে ডুবুরি নামিয়ে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। বুধবার সকালেও ফের শুরু হয়েছে অনুসন্ধান। খবর পেয়ে ভাটপাড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সৌরভ সরকারের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ছেলে মাঝেমধ্যেই বিকেলে সেখানে বসতে যেত, তিন জনকে ডুবে যেতে দেখে বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিল। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। (Dol Tragedy in Ganga)

পরপর এই দুই দুর্ঘটনার পর গঙ্গাস্নানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। কার্যত দলের আনন্দের পরিবর্তে গঙ্গার জল যেন শোক বয়ে আনল দুই পরিবারের কাছে। (Dol Tragedy in Ganga)


Exit mobile version