মঙ্গলবার রাতে আচমকাই কেঁপে উঠল কলকাতা। রাত ৯টা ৭ মিনিটে তিলোত্তমা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে মাঝারি থেকে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয় (earthquake kolkata)। শুধু কলকাতাই নয়, হাওড়া, পানিহাটি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা-সহ একাধিক জেলায় মানুষ কম্পন টের পান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঢাকা, টাঙ্গাইল-সহ বিভিন্ন এলাকাতেও কম্পনের খবর মিলেছে। হঠাৎ ঝাঁকুনিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বহু মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, বহুতল আবাসনে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে। বিছানা কেঁপে ওঠা, দরজা-জানালা নড়াচড়া করা এবং ঘরের আসবাব দুলে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অনেকে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয় বলে দাবি।
ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মায়ানমারের মাগওয়ে (Magway) অঞ্চল। বিভিন্ন ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৬ থেকে ৬.৪। এপিসেন্টার কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে হলেও, মাঝারি গভীরতায়—ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার নীচে—কম্পনের উৎস থাকায় এর প্রভাব বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণেই পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশে কম্পন টের পাওয়া গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অঞ্চলে একাধিক ছোট ভূমিকম্প হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে বাংলাদেশে ৪.১ এবং সকালে তিব্বতে ৩.২ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। যদিও সেগুলির প্রভাব কলকাতায় পড়েনি। অতীতেও নভেম্বর মাসে কলকাতা ভূকম্পনের অভিজ্ঞতা পেয়েছে।
এত তীব্রতা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। তবে হঠাৎ এই কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

