শহরে ভূমিকম্প। ২৭ তারিখ শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ কেঁপে ওঠে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা। এক মিনিটে মোট তিনবার কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে সকলে রাস্তায় নেমে পড়েন। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়াতে কম্পন অনুভূত হয়। কলকাতায় কম্পনের মাত্রা ৫.৫। উৎসস্থল বাংলাদেশের মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই নিয়ে চলতি মাসে দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হলো। ৩ ফেব্রুয়ারি কেঁপেছিল কলকাতা।
বহু শহরবাসীর মোবাইলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত নোটিফিকেশন এসেছে। এই ঘটনার পর আতঙ্কিত রাজ্যের মানুষরা। জানা যাচ্ছে, বাংলা পাশাপাশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে ত্রিপুরা, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়াতেও।
সরকারি ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ২২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে কম্পনটি নথিভুক্ত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫। অক্ষাংশ ২২.৫৭ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮৯.১১ ডিগ্রি পূর্বে কম্পনের কেন্দ্র চিহ্নিত হয়েছে। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎসস্থল থাকায় কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয় দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে।
বাংলাদেশের খুলনা ও সংলগ্ন এলাকায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বলে আন্তর্জাতিক ভূকম্পন সংস্থাগুলির তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। সেখানেও বেশ কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। ঢাকাসহ একাধিক শহরে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কম্পনের অভিঘাত বেশি ছিল বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।
কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলিতে একাধিক বহুতল আবাসন, অফিস এবং বাণিজ্যিক ভবনে কর্মরত মানুষ দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসেন। অনেক জায়গায় সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা সংলগ্ন এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্গত। অগভীর গভীরতায় সৃষ্ট কম্পনের প্রভাব সাধারণত বেশি বিস্তৃত হয় এবং তার অভিঘাতও তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি। ভবন থেকে দ্রুত কিন্তু সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলাই এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নাগরিকদের সতর্ক ও সংযত থাকতে বলা হয়েছে।

