ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হল। SIR Hearing-এ নথি হিসেবে মাধ্যমিক বা সমতুল দশম শ্রেণির পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আর গ্রহণযোগ্য নয়—স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে যাচাইয়ের জন্য যে নির্দিষ্ট নথিগুলির তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের উল্লেখ নেই। SIR-এর ক্ষেত্রে মোট ১১টি (বা কিছু ক্ষেত্রে ১৩টি) নথিকে বৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট বা স্বীকৃত বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত শংসাপত্র, কারণ সেগুলিতে জন্মতারিখ ও জন্মসালের স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। কিন্তু পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে সেই তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে না থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই কমিশনের দাবি।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বহু ভোটার শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন। কোথাও কোথাও বিএলও-রাও সেই নথি গ্রহণ করেছিলেন। উত্তরবঙ্গের এক জেলাশাসক ভিডিও কনফারেন্সে বিষয়টি তোলার পরই রাজ্যের CEO দপ্তর দিল্লির কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য চিঠি দেয়। তার জবাবেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়—অ্যাডমিট কার্ড কোনওভাবেই বৈধ নথি নয়।
এর আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে অ্যাডমিট কার্ডকে যাচাইয়ের নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। যুক্তি ছিল, বহু সাধারণ মানুষের কাছে এটিই একমাত্র শিক্ষাগত নথি। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে যাঁরা অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন তাঁদের কী হবে? নতুন করে কি আবার শুনানিতে ডেকে অন্য নথি চাওয়া হবে? ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই SIR প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকেই। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

