Site icon Hindustan News Point

তৃণমূল ছাড়াই ভোটের লড়াই ফলতায়, পুনর্নির্বাচনে সকাল থেকেই লম্বা লাইন বুথে বুথে

Falta Re Election 1

কমিশনের নির্দেশ মতো বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার আবহে পুনর্নির্বাচনের শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৪২.৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।এদিন সকাল সাতটা বাজতেই বুথের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ে। মহিলা, প্রবীণ থেকে শুরু করে প্রথমবারের ভোটার— সকলের মধ্যেই ভোট দেওয়ার উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। গোটা এলাকা কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ২৮৫ টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে এবং প্রতিটি বুথেই ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে ভোটপর্বের প্রতিটি মুহূর্ত সরাসরি নজরদারিতে থাকে। (Falta Re-Election)

রাজ্যের দ্বিতায় দফার নির্বাচনে গত ২৯ এপ্রিল ফলতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ছিল। কিন্তু ভোটের দিন একাধিক বুথে ইভিএমে টেপ ও আতর লাগানো সহ একাধিক অভিযোগ তোলেন ভোটারদের একাংশ। অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। বুথভিত্তিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওয়েব কাস্টিংয়ের ফুটেজও পরীক্ষা করা হয়। তদন্তে কিছু অসঙ্গতির ইঙ্গিত মেলায় কমিশন শেষ পর্যন্ত ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বৃহস্পতিবার নতুন করে ভোট হচ্ছে। (Falta Re-Election)

নির্বাচন কমিশনের তরফে নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখা হয়নি। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি বুথে এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় জওয়ান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। গুরুত্বপূর্ণ বুথগুলিতে বাড়তি নজরদারিও চালানো হচ্ছে। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, ভোট যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবারের ফলতা নির্বাচন রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলার কোনও নির্বাচনে কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসকে লড়াইয়ের বাইরে দেখা যাচ্ছে। ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নাম প্রত্যাহারে দিন আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় জাহাঙ্গিরের নাম ইভিএমে থেকে গিয়েছে। এরফলে ফলতায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে হয়ে উঠেছে। (Falta Re-Election)

এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন বিশেষভাবে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। সুষ্ঠু ও রক্তপাতহীন ভোট করানোর লক্ষ্যে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই কৌশল অনেকটাই সফলও হয়েছে। রাজ্যের অধিকাংশ জায়গাতেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। যদিও ফলতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে। সেই পরিস্থিতিতে কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।এদিন সকাল থেকে ভোটের হারও সন্তোষজনক বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের আশা দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং কোনও বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এখন নজর ভোটের শতাংশ ও শেষ পর্যন্ত ফলতা কোন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোয়, সেদিকেই।

‘পুষ্পা ঝুঁকল কেন?’ ফলতায় জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোয় বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ


Exit mobile version