ফলতা বিধানসভায় উপনির্বাচনের (Falta Repoll) আগে রাজনীতির ময়দান এখন পুরোপুরি সিনেম্যাটিক! একদিকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের হঠাৎ নাম প্রত্যাহার, অন্যদিকে বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর ‘পুষ্পা’ ডায়লগ— সব মিলিয়ে ফলতার ভোটযুদ্ধ এখন যেন টলিউড-বলিউড মিশ্রিত রাজনৈতিক মেগা এন্টারটেনার।
(Falta Repoll) বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার সমর্থনে প্রচারে এসে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত তৃণমূলকে ‘ওয়াকওভার রাজনীতি’র অভিযোগে তুলোধোনা করলেন। তাঁর দাবি, “ধরে তো আপনাকে মানুষই দিত ২১ তারিখ! আপনি তো পোলিং এজেন্টই পেতেন না!”— এই মন্তব্যের পর হাসির রোল ওঠে।
এরপরেই আসে দিনের সবচেয়ে ভাইরাল মুহূর্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সংলাপ— “যিনি গাছে তুলেছিলেন, মাননীয় ভাইপো… তোমার দেখা নাইরে!” তারপরই সিনেমার ঢঙে ‘পুষ্পা’ প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “পুষ্পা বলেছিল ঝুঁকেগা নেহি… আজকে বলছে আমি পগারপার!”
‘ঝুঁকে গেল পুষ্পা’, ফলতায় ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান: Falta Repoll: “পুষ্পা পগারপার, ভাইপো বেপাত্তা!” তৃণমূলকে ঠুকে ফলতায় পদ্মফুল ফোটানোর ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীররাজনৈতিক মহলের মতে, জাহাঙ্গির খানের মনোনয়ন প্রত্যাহার বিজেপির কাছে নিঃসন্দেহে বড় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা এনে দিয়েছে। কারণ, (Falta Repoll) ভোটের আগেই বিরোধী শিবিরে “জয়ের হাওয়া” তৈরি করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তবে তিনি নিজেই আবার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, এটা তৃণমূলের “কৌশল”ও হতে পারে— যাতে বিজেপি সমর্থকরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভোট দিতে না যান। তাই সভামঞ্চ থেকেই তাঁর বার্তা, “জিতেই গেছি ভাববেন না। ১০০ শতাংশ ভোট চাই। তিন নম্বর বোতাম টেপা চাই। পদ্মফুলে ভোট চাই।”
সভায় আরও একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবিষ্যতের ‘ট্রেলার’ও দেখিয়ে দেন। তাঁর কথায়, “২৪ মে-র পরে মুখ্যমন্ত্রী আসবে, সেচ চালু করবে, হাতে কাজ দেবে, পেটে ভাত দেবে, মাথায় ছাদ দেবে।” অর্থাৎ ভোটের ময়দান থেকে সরাসরি ‘ডেভেলপমেন্ট’র স্ক্রিপ্টও শুনিয়ে দিলেন তিনি।
শুধুই ডায়লগ নয়, ফলতার মানুষকে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। (Falta Repoll) নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকেই তিনি ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকার রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দেন। তাঁর দাবি, একুশের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপির ৩২১ জন কর্মীর পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, ঘরছাড়া হয়েছেন বা জীবিকা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের আশ্বাসও দেন তিনি। ফলতার সভা থেকে তাঁর আরও ঘোষণা, নতুন সরকার এলে এলাকায় সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ বন্ধ করা হবে। তাঁর কথায়, “যাঁরা আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেবে সরকার।”
এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে সামনে রেখেই বিজেপি এখন ফলতায় “পরিবর্তনের প্যাকেজ” তুলে ধরতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। (Falta Repoll) বিশেষ করে জাহাঙ্গির খানের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। তবে ভোটের মাঠে আবেগ, প্রতিশ্রুতি আর রাজনৈতিক কৌশলের এই মিশ্রণ শেষ পর্যন্ত কতটা কাজে দেয়, সেটাই এখন দেখার।
ফলতার রাজনৈতিক করিডরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক? তৃণমূল শিবিরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে কিন্তু বিজেপি শিবিরে এখন উৎসবের আবহ। তাদের দাবি, “১০ বছর পরে মানুষ নাকি সত্যিকারের ভোট দেওয়ার স্বাদ পাচ্ছেন।”
সব মিলিয়ে (Falta Repoll) ফলতায় এখন ভোটের থেকে বেশি চলছে ডায়লগ যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে আপাতত বিজেপির মঞ্চে ‘পুষ্পা’, ‘ভাইপো’ আর ‘পগারপার’— তিনটেই সুপারহিট! তবে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ।
‘পুষ্পা ঝুঁকল কেন?’ ফলতায় জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোয় বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ: Falta Repoll: “পুষ্পা পগারপার, ভাইপো বেপাত্তা!” তৃণমূলকে ঠুকে ফলতায় পদ্মফুল ফোটানোর ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর
