সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে পুরো এলাকা। তড়িঘড়ি বের করে আনা হচ্ছে রোগীদের। পৌঁছেছে দমকলের দুটি ইঞ্জিন। ততক্ষণে অবশ্য হাসপাতালের দ্বিতলের অপারেশন থিয়েটারের একাংশ আগুনের গ্রাসে। দমকলের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়েরাও আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। সেই সঙ্গে রোগীদের বার করে আনার তোড়জোড় শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে আগুন নেভানোর জন্য দমকলের আরও একটি ইঞ্জিন আনা হয়।
এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। তীব্র আতঙ্কে হাসপাতালে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। বাকি অংশেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাইরে বেরিয়ে এসে রোগীর আত্মীয়রা জানানা, দমকলের পৌঁছতে দেরি হয়েছে, তাই তাঁরা নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন। কাচ ভেঙে বের করতে হয় রোগীদের। খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। দোতলার একটি কাচে ঢাকা অংশ ভেঙে ফেলতে হয়। কেউ কেউ স্যালাইন হাতেই বাইরে বেরিয়ে পড়েন।
যদিও হাসপাতালের কর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন, ৭০-৭৫ জন রোগীকে স্থানান্তর করা হয়েছে আনন্দলোকের অন্য ভবনে। তাঁরা সকলে সুরক্ষিত রয়েছেন। হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, ‘‘পুরো ভবনের দোতলা, তিনতলা যেখানে যত জন রোগী ভর্তি ছিলেন, সকলকে আমরা উদ্ধার করেছি। ৪০-৪৫ জনকে বার করে আনা হয়েছে।’’ ডলি রায় নামে আর এক কর্মী জানান, সব মিলিয়ে ৭০-৭৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোগীদের সকলেই সুরক্ষিত। তবে স্বাভাবিক ভাবে পুরো ঘটনায় আতঙ্কিত রোগী পরিজনেরা। কী ভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
এই ঘটনা উসকে দিচ্ছে আমরি হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনা। ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর আমরি হাসপাতালে আগুন লেগেছিল। যেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৯৩ জনের।

