ইতিমধ্যেই একাধিক সেলিব্রিটি-সহ ক্রীড়াবিদকে এসআইআর শুনানি জন্য ডেকেছে কমিশন (SIR Hearing)। যথাযথ প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও অহেতুক তাদেরকে ডাকা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই তালিকায় রয়েছেন বাংলার একাধিক ফুটবলারের নাম। এরই প্রতিবাদে সোমবার পথে নামলেন ক্রীড়াবিদরা। বলা ভালো নামতে বাধ্য হয়েছেন। এসআইআর-র নামে বাংলার খেলোয়াড়দের হেনস্থার অভিযোগ তুলে ভবানীপুর ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল প্রাক্তন ফুটবলাররা।
ফুটবলারদের অভিযোগ, সামান্য কারণে হেনস্থা হতে হচ্ছে তাঁদের। প্রাক্তন ফুটবলার তরুণ দে-র থেকে এই সমস্যার শুরু হলেও বর্তমানে মেহতাব হোসেনের পরিবার, কম্পটন দত্ত, অলোক মুখোপাধ্যায় কিংবা দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো কিংবদন্তিরাও একই গেরোয় পড়েছেন। এমনকি মহম্মদ শামি বা লক্ষ্মীরতন শুক্লার মতো তারকাদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। যে ফুটবলাররা দেশের হয়ে মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন, আজ তাঁদের তুচ্ছ কারণে শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই অসম্মানের প্রতিবাদ জানাতেই এদিন কলকাতার রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ময়দানের প্রাক্তনীরা। গঙ্গার ধারের গঙ্গাসাগর মেলার ভিড়ের কারণে গোষ্ঠ পালের মূর্তির বদলে ভবানীপুর ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ সভা হয়। সেখানে মানস ভট্টাচার্য, অলোক মুখোপাধ্যায় সহ ময়দানের অনেক চেনা মুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া হোক ঠিকই, কিন্তু তাই বলে দেশের হয়ে খেলা মানুষদের কেন অকারণে কষ্ট দেওয়া হবে?
চার ক্লাব, এক রাজ্য: ISL 2026-এ ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু বাংলা
ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এটা কোনও রাজনীতির বিষয় নয়। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সাধারণ বয়স্ক মানুষদেরও এই রোদে-জলে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। অলোক মুখোপাধ্যায়ও অবাক হয়েছেন যে, সব ফর্ম ঠিকঠাক জমা দেওয়ার পরেও কেন তাঁর ছেলেকে শুনানিতে যেতে হলো। দীপেন্দু বিশ্বাসদের একটাই কথা— যাঁরা আসল ভোটার, তাঁদের যেন সম্মান বজায় থাকে। এই হেনস্থা বন্ধ করার জন্য প্রাক্তন ফুটবলাররা এখন নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছেন ময়দানের প্রাক্তনেরা।

