মকর সংক্রান্তি মানেই গঙ্গাসাগরের পথে লক্ষ লক্ষ মানুষের যাত্রা। বছরের এই বিশেষ দিনে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানকে ঘিরে উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে গঙ্গাসাগরে স্নান করলে পাপের ক্ষয় ঘটে এবং পূর্বপুরুষদের আত্মা শান্তি লাভ করে। কারণ এই দিনেই সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে এবং উত্তরায়ণের সূচনা হয় যাকে শাস্ত্রমতে অত্যন্ত শুভ সময় বলে মানা হয়। Makar Sankranti
পুরাণে বর্ণিত কাহিনী অনুযায়ী, রাজা ভগীরথের কঠোর তপস্যার ফলেই এই তিথিতে গঙ্গা নদী সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যের জন্য যুগ যুগ ধরে মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরের পুণ্যস্নান এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্নানের পাশাপাশি দান-ধ্যানেরও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে এই দিনে। তাই অনেক পুণ্যার্থী তিল, গুড়, বস্ত্র ও নানা খাদ্যদ্রব্য দান করছেন। তাঁদের বিশ্বাসের মন্ত্র একটাই, ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’।
প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ভক্তদের ঢল নেমেছে সাগরতটে। ভোররাত থেকেই শুরু হয় পুণ্যস্নান, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা এলাকা ভরে ওঠে মানুষের ভিড়ে। সাগরের জলে ডুব দেওয়ার পর কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। মন্দির চত্বরে ভিড় এমনই যে তিল ধারণের জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। Makar Sankranti
এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলা প্রাঙ্গণে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক। আকাশপথে ড্রোন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে কড়া নজরদারি। বিশেষ করে স্নানঘাটে দুর্ঘটনা এড়াতে জলপথে সিভিল ডিফেন্স, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা নিরন্তর টহল দিচ্ছেন।










