মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের আগেই বড়সড় বিপত্তির মুখে গঙ্গাসাগর মেলা। শুক্রবার ভোররাতে কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেল একাধিক অস্থায়ী হোগলার ছাউনি। মেলার সূচনালগ্নেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুণ্যার্থী, দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক পাঁচটা নাগাদ আশ্রম সংলগ্ন ২ নম্বর রোডের পাশে একটি অস্থায়ী ছাউনি থেকে প্রথমে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। সে সময় গোটা এলাকা কুয়াশায় ঢাকা থাকায় আগুন দ্রুত নজরে আসে না। শুকনো হোগলা পাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ছাউনিগুলিতে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক ছাউনি গ্রাস করতে থাকে। GANGASAGAR FIRE
আগুন লাগার খবর পেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। পাশাপাশি দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশ প্রশাসনকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁরা গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং দমকল ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। তবে ঠিক কতগুলি অস্থায়ী ছাউনি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গিয়েছে এবং এতে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার সঠিক হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। GANGASAGAR FIRE
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট কিংবা কোনো রান্নার উনুন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর নেই, যদিও বহু দোকানদারের মালপত্র পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেলা শুরুর মুখে এমন ভয়াবহ ঘটনায় গঙ্গাসাগর মেলার নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।











