Site icon Hindustan News Point

ময়লা ফেলার গাড়ি বিক্রির অভিযোগ, উদ্ধার পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ

Panchayat Pradhan Death

দিন কয়েক ধরেই দফায় দফায় বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গলা অবধি ডুবে ছিলেন ঋণের বোঝায়। পঞ্চায়েতের ময়লা ফেলা গাড়ি বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ছিল তাঁর উপর। এই সব ঘটনার পরই নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হলো তাঁর ঝুলন্ত দেহ(Panchayat Pradhan Death)। মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হলো উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের দেহ। আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জানা যাচ্ছে, দিন কয়েক আগেই এই প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল এলাকার মানুষ। গত ৩১ মে তাঁরা অভিযোগ করেন, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন জাহিদুল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতে ১২ টি ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার গাড়ি সরকার থেকে দেওয়া হয়। গত তিন বছর আগে দেওয়া এই গাড়িগুলো প্রধান তাঁর নিজের বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে রেখে দেন। পরবর্তীকালে এলাকার মানুষজন দেখেন সেই ১২টি গাড়ির জায়গায় মোটে ৩টি গাড়ি পড়ে রয়েছে। বাদবাকি ৯টি গাড়ি বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

৩১ মে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষ ওই পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এরপরই এলাকার মানুষ ঘটনার কথা জানতে পেরে বাদুড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করে তাঁকে গ্রেফতার এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরই তদন্তে নামে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। সেই সময় থেকেই এলাকা ছাড়া ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্য।

মঙ্গলবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, অনেক ঋণ রয়েছে ওই পঞ্চায়েত প্রধানের। পঞ্চায়েতে দুর্নীতি এবং গাড়ির ব্যাটারি চুরি করেছেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না বলেই এই পদক্ষেপ। তবে কি তিনি সত্যিই আত্মহত্যা করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ, খতিয়ে দেখছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।


Exit mobile version