নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়ে গেল ‘হোম ভোটিং’। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে বসেই ভোট দেওয়ার এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে এক অর্থে বলা যায়, রাজ্যে ভোট প্রক্রিয়া আজ থেকেই কার্যত শুরু হয়ে গেল। সোমবার সকাল থেকেই ভোটকর্মীরা ব্যালট বক্স,(Home Voting In West Bengal )প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের দরজায়। প্রথম দিনেই পুরুলিয়া জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৫৮৮ জন ভোটার এই সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এঁদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৯ জনই ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে। দু’দিন ধরে চলবে এই হোম ভোটিং প্রক্রিয়া।নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, শারীরিকভাবে অসুস্থ বা ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটাররাই কেবল এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তারপর আবেদন যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে নির্দিষ্ট তালিকা। চূড়ান্ত তালিকা থেকে শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহের কাজ।
বাঁকুড়া জেলাতেও দেখা যাচ্ছে একই ছবি। সেখানে প্রায় ১২ হাজার ভোটার এই বিশেষ সুবিধার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকর্মীরা একের পর এক বাড়িতে পৌঁছচ্ছেন। প্রতিটি বাড়িতে অস্থায়ী ভোটিং কম্পার্টমেন্ট তৈরি করে গোপনীয়তা বজায় রেখে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। (Home Voting In West Bengal )
প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যের সব জেলায় হোম ভোটিং প্রক্রিয়া সুস্থভাবে সম্পূর্ণ করা। নির্বাচনে যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারেন ও সবার কাছে সহজলভ্য হয়। সেই কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে খুশি প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররা। অনেকেই এই নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “ঘরে বসেই ভোট দিতে পারব, এটা সত্যিই অনেক বড় সুবিধা।” নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। এই হোম ভোটিং ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বয়স্ক ও অক্ষম নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।(Home Voting In West Bengal )

