দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। তবে প্রধান বেপাত্তা। তাই প্রধানকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর বাড়িতেও চড়াও হলো উত্তেজিত জনতা। শুক্রবার হাওড়ার শ্যামপুর থানার নাকোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বর্তমানে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সদানন্দ দাস। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে এলাকায় দেখা যায় না। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। সেই ক্ষোভই শুক্রবার বিস্ফোরণের রূপ নেয় বলে দাবি স্থানীয়দের। (Howrah Incident)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, এদিন সকাল থেকেই বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, প্রধানের বাড়ির সামনে জড়ো হন। গেটে তালা দেখে সেটি ভাঙার চেষ্টাও করেন। পরে উত্তেজিত জনতা বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র, দরজা-জানালা এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এরপর ঘর থেকে বের করে আনা আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
দুর্গাপুরে আদিবাসী কিশোরীকে ‘গণধর্ষণ‘, গ্রেফতার ৪; অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, বিক্ষোভ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। (Howrah Incident)
ইতিমধ্যে ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল সেটাই এই ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আগুন লাগানো, ভাঙচুর এবং এলাকায় শান্তি নষ্ট করার পিছনে কে বা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

