শুরুতে যেমনটা ভাবা গিয়েছিল। ঠিক তেমনটা আর হল না। ২৬-শের মহারণের শুরুর দিকে শাসকদল বিরোধী ভোটের যেভাবে প্রচার শুরু করেছিলেন, আসন্ন নির্বাচনের মুখে সেই প্রচারের প্রভাব তেমনটা আর পড়ছে না। আসতে আসতে এই ভোটে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন। একের পর এক প্রার্থী ও দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ভোটের আসর থেকে সরে দাঁড়ালেও মঙ্গলবার হেলিকপ্টার চেপে ‘ভোটের মার্কেটিং’ করতে নেমে পড়লেন ‘মিম-সঙ্গী’ হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)।
বেলডাঙা থেকে উড়ে গিয়ে সভা করলেন মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও রেজিনগরে। তবে সাদা-সবুজ হেলিকপ্টার দেখিয়েও ভিড় হল না তাঁর প্রথম দুই সভাতেই। উল্লেখ্য, এই হেলিকপ্টার সামনে রেখে বিরোধীদের তিনি জোটে আসার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই জোটে যেমন সাড়া মেলেনি, তেমনই সাদা-সবুজ হেলিকপ্টার দেখতে হেলিপ্যাডে হাতে গোনা কচিকাঁচাদের ভিড় হলেও দুই সভাতেই বহু চেয়ার ফাঁকা ছিল।
স্বভাবতই প্রথম দুই সভায় ভিড় না হওয়ায় রীতিমতো হতাশ হুমায়ুন। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘ভোটে প্রচার করব বলেই ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভাড়া করা এই হেলিকপ্টার থাকবে, ৫০টি সভা করব।’’
প্রশ্ন উঠেছে, কোথা থেকে, কার কাছ থেকে টানা ২০ দিন বেসরকারি হেলিকপ্টার ভাড়া রাখার জন্য এত টাকা পেলেন হুমায়ুন? কী উদ্দেশ্যে কে বা কারা এত টাকা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীরকে ((Humayun Kabir)) দিল? শুধুই কি হেলিকপ্টার দেখিয়ে ভোটের মার্কেটিং? নাকি ভিড় বাড়ানোর জন্য? এ নিয়ে নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। কটাক্ষের মুখে পড়ছেন হুমায়ুন। কারণ, গাড়ি চেপে বেলডাঙা থেকে ডোমকল যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে সেখানেও প্রথমদিনই হেলিকপ্টার চেপে সভাস্থলে পৌঁছন হুমায়ুন।
এতদিন রেজিনগর থেকে গাড়িতেই যাতায়াত করতেন হুমায়ুন, সেখানে এদিন আকাশপথে গিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য?, বেলডাঙা থেকে ডোমকলের দূরত্ব ৫৫ কিমি ও ডোমকল থেকে রেজিনগর থেকে ভিড়ে যেতে দু’ঘণ্টা লাগে গাড়িতে। আবার রেজিনগর থেকে বেলডাঙা গাড়িতে আধঘণ্টার পথ যান হেলিকপ্টারেই। যতই হেলিকপ্টার দেখিয়ে ভোট চান না কেন, এর আসল প্রভাব পড়বে ভোটবাক্সে।

