তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিধায়ক (Humayun Kabir) হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলে ধরলেন তিনি। শনিবার মুর্শিদাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন হুমায়ুন।
তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকেই জিতে আসা কয়েকজন সাংসদ এখন নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আলাদা ব্লক তৈরি করছেন এবং NDA-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। (Humayun Kabir) হুমায়ুনের কথায়, “এরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মানুষের ভোটে জিতে এসে দুই বছর পর দলবদল বা অন্য রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া নৈতিকতার পরিপন্থী।”
(Humayun Kabir) তিনি আরও বলেন, “যাঁরা আজ আলাদা ব্লক গড়ছেন, তাঁরা ২০২৪ সালে তৃণমূলের নামে ভোট চেয়েছিলেন। এখন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য NDA-র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষই এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”
রাজনৈতিক সৌজন্যতার প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবীর বলেন, “TMC হোক, BJP হোক, কংগ্রেস হোক বা CPM—সব দলের প্রতিই সৌজন্যতা থাকা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা সংঘর্ষে যাওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রুতা গণতন্ত্রের পক্ষে ভালো নয়।”
জন্মের আগে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় হারায় বাবা ও দিদিকে, এক বছরের সেই শিশুর হৃদয়বিদারক গল্প
এদিন মালদায় মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। (Humayun Kabir) হুমায়ুন জানান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সমস্যা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেছেন। গঙ্গা ভাঙন, রাস্তার বেহাল অবস্থা, নওদা ও পলাশী এলাকার উন্নয়ন এবং সুগার মিল সংক্রান্ত বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে।
হুমায়ুনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন হবে না। তিনি বলেন, “উনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও ‘ওরা-আমরা’ হবে না। বাংলার সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। পনেরো বছর ধরে যে সমস্যাগুলি জমে রয়েছে, সেগুলি সমাধান করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী DGP কে বলেছেন, এমন পরিস্থিতি যেন না হয় যে আমাকে এসে বলতে হয় পুলিশ ঘুষ নিচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি, ‘তালা ভেঙে গোটা বাড়ি খুঁজেছে’— বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীর। (Humayun Kabir) তাঁর দাবি, অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও তিনি বলেন, “প্রমাণ ছাড়া কাউকে ফাঁসানো উচিত নয়। যে-ই হোক, প্রমাণ থাকলে আইন আইনের পথেই চলবে।”
বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন। (Humayun Kabir) তিনি জানান, একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে, জমি কেনা হয়েছে এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেন অডিটের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে না চাইলেও ভবিষ্যতে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়া সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা, উন্নয়নের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য—একাধিক ইস্যুতে সরব হন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

