গরু নয় কোরবানিতে ছাগল বা অন্য প্রাণী দেওয়া হোক এমনই দাবি কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিটে অবস্থিত নাখোদা মসজিদ-এর ইমাম ও মৌলানা মহম্মদ শফিক কাশিমের। কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের কাছে ‘গরু’কে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে হঠাৎ কেন এমন দাবি?
সম্প্রতি মৌলানা মহম্মদ শফিক বলেন, হিন্দুরা গরুকে ভগবান হিসেবে দেখেন তাই মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বহুদিন ধরেই নানান ধর্মীয় ভেদাভেদ হয়ে আসছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকার পাল্টানোর পর নির্দেশিকা জারি করে প্রকাশ্যে কোরবানিতে গরু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তবে এমন একতরফা বিচার হওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, গরু জবাইকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে কোনও ধরনের বিভেদ বা অশান্তি তৈরি হোক, তা কোনও মুসলিমই চান না। তবে শুধুমাত্র মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়াতে আপত্তি থাকলে হবে না। গরু বিক্রি করে তো হিন্দুরাও ব্যবসা করেন। বন্ধ করতে হলে গরু নিয়ে ব্যবসা করাই বন্ধ করে দিন, তাহলে কেউ খাবেও না, বললেন তিনি। (Imam Maulana Mohammed Shafiq Qasmi)
মৌলানা মহম্মদ শফিক জানান, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর বক্তব্য, সরকারের উচিত এমন নিয়ম করা যাতে ধর্মীয় উৎসবে কোরবানির সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ চাইলে গরুর পরিবর্তে ছাগল বা অন্য কোনও পশু কোরবানি দিতে পারেন। এতে ধর্মীয় আচারও পালন হবে, আবার সমাজে অশান্তির পরিবেশও তৈরি হবে না।
তিনি মুসলিম সমাজের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়েছেন, যেন কোরবানির ক্ষেত্রে এমন পশু বেছে নেওয়া হয় যা নিয়ে কোনও বিতর্ক বা বিরোধের সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, এতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে যে সমস্ত হিন্দু ব্যবসায়ী কোরবানির সময় মুসলমান ভাইদের কাছে গরু বিক্রি করে ব্যবসা করেন সেটিও বন্ধ করতে হবে। তাহলেই আর কোনও সমস্যা হবে না।
নাখোদা মসজিদের ইমাম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইসলাম শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। তাই সমাজে শান্তি বজায় রাখতে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য রক্ষা করতে সকলেরই সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর এই আবেদন মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং সম্প্রীতির বার্তা আরও শক্তিশালী হবে। (Imam Maulana Mohammed Shafiq Qasmi)
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে তাঁর এই বার্তাকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।
Child Abusement With Chocolate: প্রতিবেশী বৃদ্ধের হাতে যৌন হেনস্থার শিকার নাবালিকা, পলাতক অভিযুক্ত

