Site icon Hindustan News Point

যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি, গ্রেফতার ৬

Jadavpur Railway Station

যাদবপুর রেলস্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাত থেকে যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার রেশ সোমবারও অব্যাহত। রেলের তরফে স্টেশন সংলগ্ন এলাকাকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে রাতের অন্ধকারেই শুরু হয় বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান। বহু বছর ধরে স্টেশন এলাকার পাশে গড়ে ওঠা হকার স্টল ও ছোট দোকান সরিয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পথে নামেন হকারদের একাংশ, স্থানীয় বাসিন্দারা, বামপন্থী সংগঠনের কর্মী-সমর্থক এবং ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সদস্যরা। ক্রমশ আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। (Jadavpur Railway Station)

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার গভীর রাত থেকে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। উচ্ছেদ রুখতে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভে বসেন এবং রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় রেল পুলিশ, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে বামপন্থী সংগঠনগুলির দাবি। (Jadavpur Railway Station)

আহতদের তালিকায় রয়েছেন যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ সুজন চক্রবর্তী, SFI এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এবং বাম নেতা জয়রাজ ভট্টাচার্য। সংঘর্ষের সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। লাঠিচার্জে আহত হওয়ার পর সুজন চক্রবর্তী ও জয়রাজ ভট্টাচার্যকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণের জন্য সিটি স্ক্যান করান। এছাড়া রামগড় এলাকার বাসিন্দা ঋতব্রত ঘোষ নামে এক বিক্ষোভকারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর মিলেছে।

ঘটনার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, পুলিশ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, SFI নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদেই সোমবার ভোররাত থেকে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। রাত প্রায় তিনটে নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে ছাত্রছাত্রীরা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অবিলম্বে সৃজন ভট্টাচার্য-সহ সমস্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। (Jadavpur Railway Station)

এদিকে রাতভর চলা উচ্ছেদ অভিযানে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন একাধিক দোকান, অস্থায়ী কাঠামো এবং হকার স্টল ভেঙে ফেলা হয়। রেল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, স্টেশন এলাকার উপর দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি দখল তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দিচ্ছিল। সেই কারণেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। যেসব দোকান এখনও সরানো হয়নি, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। (Jadavpur Railway Station)

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সাধারণ হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলেই বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আইন মেনেই স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে যাদবপুরে উচ্ছেদ অভিযান, বিক্ষোভ, লাঠিচার্জের অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারি ঘিরে পরিস্থিতি সোমবারও যথেষ্ট উত্তপ্ত ছিল।(Jadavpur Railway Station)

জাল আধার-ভোটার কার্ডে ভারতে বাস, মুর্শিদাবাদে গ্রেফতার ৫ বাংলাদেশি


Exit mobile version