একদিকে পরিষদীয় দল অন্যদিকে সাংসদীয় দলে তৃণমূলে ‘বিদ্রোহ’-এর সুর সপ্তমে। একে একে দল ছাড়ছেন বিক্ষুদ্ধরা। অন্যদিকে,তোলাবাজি, দুর্নীতি, ভয় দেখানো, মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার (jahangir khan arrested) হচ্ছেন একের পর তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা। এক্কেবারে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ঘাসফুল। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। গ্রেফতারের পরই তাঁর পার্টি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা তৃণমূল নেতার দলীয় অফিসে ঢুকে দেখেন বস্তা বোঝাই করে রাখা সরকারি ত্রাণসামগ্রী।
সূত্রের খবর, জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির খবর পাওয়ার পরই ফলতায় তাঁর পার্টি অফিসে আছড়ে পড়ল জনরোষ। বিলাসবহুল সেই দলীয় অফিস। দলীয় অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালালেন উত্তেজিত জনতা। ভাঙা হলো জানালার কাচ, চেয়ার, টেবিল। এই অফিসের একটি ঘরে মজুত করা ছিল দুর্গতদের জন্য সরকারী ত্রাণসামগ্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ত্রাণ দুর্গতদের না দিয়ে দলীয় অফিসে জমিয়ে রেখেছিলেন। খবর পেয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ ও কেন্দ্রীয়বাহিনীর বিশাল বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই দলীয় অফিস থেকে অনেক অনৈতিক কাজ করত জাহাঙ্গির খান।
ফলতায় রি-পোল হওয়ার পর থেকেই কার্যত অন্তর্ধানে চলে যান জাহাঙ্গির খান। দলীয় অফিসেও তাঁকে বেশকিছুদিন ধরে দেখা যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। তারপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নামে ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফ। গোপন সুত্রে খবর তদন্তকারী অফিসারেরা খবর পান তিনি নেপালে রয়েছেন। এরপরই জাহাঙ্গিরের মোবাইল ফোন ট্রাক করা হয়। তারপরই জাহাঙ্গিরের খোঁজ পান তদন্তকারী অফিসারেরা। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় এই তৃণমূল নেতাকে।
এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁর পলাতক থাকার সময় কারা তাঁকে আশ্রয় বা সাহায্য করেছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

