Site icon Hindustan News Point

Javed Akhtar: পি সি চন্দ্র পুরস্কারে সন্মানিত জাভেদ আখতার, অনুষ্ঠানে কী বললেন তিনি?

Javed Akhtar

পি.সি. চন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত হলেন ভারতীয় সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি জাভেদ আখতার (Javed Akhtar)। ৩ মে রবিবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে ৩৩তম পি.সি. চন্দ্র পুরস্কারে সম্মান অনুষ্ঠান হয়ে। এই অনুষ্ঠানে জাভেদ আখতারের পাশাপশি প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। এছাড়াও ছিলেন পি.সি. চন্দ্র গ্রুপ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ কুমার চন্দ্র, জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুভ্র চন্দ্র এবং ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ চন্দ্র।

বিশেষ সম্মানে সম্মানিত হয়ে অভিভূত জাভেদ আখতারও (Javed Akhtar)। অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের নানান অভিজ্ঞতা, বর্তমানে সিনেমার গল্প, সংলাপ, গানের ধরনের পরিবর্তন থেকে শুরু করে নানা বিষয় উঠে আসে। বলিউডে অজস্র প্রেমের গান-সহ কবিতার জন্ম জাভেদের কলম থেকে। বাস্তব জীবনে তিনি ঠিক কতটা রোমান্টিক? প্রশ্ন শুনেই খানিক রসিকতার সুরে বললেন, “ যাঁরা সার্কাসে খেলা দেখা তাঁরা কি বাড়িতেও উল্টে ঝুলে থাকে?” জাভেদের এই লেখা বা সংস্কৃতি চর্চার শুরুটা কি সেই শৈশবেই, জানালেন তিনি নিজেই। ১২ বছর বয়সেই বিভিন্ন ভারতীয় সাহিত্যের ক্লাসিক পড়া শেষ করে ফেলেছিলেন। তবে এখনকার দিনে শৈশব কি সেই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ পায়? প্রশ্ন তুললেন বর্ষীয়ান লেখক।

সিনেমার সংলাপ বা গানের লিরিক্সে ভাষার পরিবর্তন এবং সঠিক শব্দ চয়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। সংস্কৃতির গভীরে না ঢুকলে ভাষার ব্যবহার বা মাধুর্য বোঝা সম্ভব নয়। নিজের কাজের জন্য অনেকসময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এটা কি শিল্পীর কণ্ঠরোধ নয়?সম্প্রতি কবি শ্রীজাতকে তাঁরই একটি লেখার জন্য আইনি জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাভেদ বলেন, “সম্প্রতি আমাকেও এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এক ধর্মীয় দলের আপত্তিতে আমার অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছিল। তবে এটা কখনওই কাম্য নয়।”

Medical Shop Strike: দেশ জুড়ে ফার্মাসি ধর্মঘট, এই তারিখে বন্ধ থাকছে ওষুধের দোকানগুলি

‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ নামে পরিচিত অমিতাভ বচ্চনের একাধিক ছবির সংলাপ, গান লিখেছেন জাভেদ। তবে বর্তমানে এই ছবিটা পাল্টে গিয়ে ‘আলফা মেল’ এরা বলিউডে রাজ করছে। এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জাভেদ আখতার (Javed Akhtar)? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন এই নৃশংসতা অশ্লীলতা হিট হচ্ছে? সে প্রশ্নটা নিজেদের করতে হবে। দর্শক যদি দায়িত্ব নিয়ে এই ছবিগুলি না দেখেন তাহলে আর এই ‘আলফা মেল’ -রা একচ্ছত্র আধিপত্য চালাতে পারবেন না।

‘প্রোপাগান্ডা ফিল্ম’ বর্তমানে একটি বহু প্রচলিত শব্দবন্ধ। এই বিষয়ে কী বললেন জাভেদ? সত্যিই কি কোনও ছবি একটি নির্দিষ্ট প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে? এই বিষয়ে তিনি ‘ধুরন্ধর’ এর নাম করেই বলেন পার্ট ওয়ান তাঁর খুব ভালো লেগেছে। যেকোনও ছবিই কোনও একটি নির্দিষ্ট বার্তা বা মতামত পোষণ করে। এবার সেটাও আমি বিশ্বাস করবো কিনা সেটা তো দর্শকের ব্যাপার। তা বলে আমি নির্মাতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না। হ্যাঁ, তাবলে প্রোপাগান্ডা বলে কোনও ভুল বার্তা সমাজে ছড়ালে তা অবশ্যই বর্জনীয়।

আলোচনার শেষ পর্বে কলকাতা নিয়েও মন্তব্য করেন জাভেদ (Javed Akhtar)। সংস্কৃতির তীর্থস্থান কলকাতা। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন এলে জাভেদ বলেন, রাজনৈতিক দল আসবে, যাবে। কিন্তু একটি গোটা জাতি বেঁচে থাকে তাদের সংস্কৃতিতে। সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথেরাই বাংলার সংস্কৃতির প্রতীক, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন।


Exit mobile version