আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে গতি আনল পুলিশ। এই ঘটনায় Wow Momo সংস্থার আরও দু’জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ধৃত মনোরঞ্জন সিট ও রাজা চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। মনোরঞ্জন কারখানার ম্যানেজার এবং রাজা ডেপুটি ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন। এর আগে ডেকরেটার্স গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।
গত ২৫ জানুয়ারি আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি ডেকরেটার্সের গোডাউনে আগুন লাগে, যা দ্রুত পাশের মোমো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখনও পর্যন্ত ২৫টি দগ্ধ দেহ বা দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। অনেক দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক দেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিভাগে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, আজীবন বেতন, আনন্দপুরের আগুনে মৃত কর্মীদের পরিবারকে সাহায্যের ঘোষণা Wow Momo-র
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, গোডাউন ও কারখানায় অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এই গাফিলতিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এদিকে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। অবকাঠামোগত নজরদারির অভাব ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিরোধী শিবির প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শোক ও ক্ষোভে এখনও ভারাক্রান্ত আনন্দপুর এলাকা।

