পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার লাগতে শুরু করেছে আমজনতার ঘরে। গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য অনেক জায়গায় কার্যত হাহাকার পরিস্থিতি। সিলিন্ডারের (LPG Cylinder Crisis) আকালে একাধিক নামী রেস্তোরাঁ বন্ধের মুখে। বহু ছোট রেস্তোরাঁ বাধ্য হয়ে ফিরেছে কয়লার উনুনে। কলকাতা থেকে জেলা গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসের সামনে লম্বা লাইন। অনেকেই গ্যাস বুক করে রেখেছেন আগেভাগেই। কিন্তু হাতে এসে পৌঁছয়নি সিলিন্ডার। একই সমস্যা সিএনজির ক্ষেত্রে
কসবা, কলকাতাঃ –
কসবার সিএনজি পাম্পেও একই ছবি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গাড়ি চালকেরা। সিএনজি নিতেই একদিন সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি গাড়িকে আগে সিএনজি দেওয়া হচ্ছে। সে
কারণে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কীভাবে চলবে তাদের সংসার সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চালকেরা
Auto Fare Increased: কোথায় ৫, তো কোথাও ১০ টাকা, রাতারাতি অটো ভাড়া বেড়েছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে
যাদবপুরঃ
হচ্ছে না অনলাইনে বুকিং। ডোমেস্টিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তির ছবি যাদবপুরের সুকান্ত সেতুর রাজা এসসি মল্লিক রোডে। অনলাইনে বুকিং না হওয়ার কারণে গ্যাসের দোকানে সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গ্রাহকেরা। অন্যদিকে গ্যাসের ডিলাররা যারা রয়েছেন তাদের পক্ষ থেকেও মিলছে না কোনও উত্তর। কেন এই ভোগান্তির ছবি কোন উত্তর নেই তাদের কাছে।
দঃ ২৪ পরগনা,সোনারপুর
একই ছবি দঃ ২৪ পরগনার। গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে হাহাকার। দাম আগেই বেড়েছে। এখন বুকিং নিয়ে চলছে সমস্যা। অনলাইনে বুকিং হচ্ছে না অনেকের। গ্যাসের অফিসে গিয়েও যে সকলের সমস্যার সমাধান যে হচ্ছে, তাও নয়। কেউ বলছেন, ‘বাড়িতে ৩ টে গ্যাস সিলিন্ডার লাগে মাসে। কত বাঁচিয়ে চলব ?’ কোনও রেস্তোরাঁর মালিক বলছেন, ‘গ্যাসের বুকিং না হলে কী করব?’ আরেক হোটেলের মালিক আবার বলেছেন, ৪ দিন ধরে গ্যাস বন্ধ। বাধ্য হয়েই কয়লাতে রান্না শুরু করেছে
নদিয়াঃ-
যুদ্ধের আবহে এলপিজি সঙ্কট নদিয়ায়। ২৫ দিনের আগে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। আর তাতেই মাথায় হাত রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অটোচালকদের। একইভাবে গৃহস্থের রান্নাঘরেও জ্বালানি নিয়ে সঙ্কটে আমজনতা। অটোয় ব্যবহৃত এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে গিটার প্রতি ৫ টাকা। আগে এলপিজি গ্যাসের লিটার প্রতি দাম ছিল ৫৭ টাকা ৬৮ পয়সা। নতুন করে ৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধিতে সমস্যায় অটো চালকরা। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না অটোচালকেরা। যদিও অটোচালকদের দাবি, তারা যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন না। তবে দুর্ভোগ বেশি দিন চলতে থাকলে অটো চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হবে।একই দুর্ভোগের ছবি নদিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে।
মালদহঃ-
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে এই বাংলায়। জেলায় জেলায় চরম সঙ্কটে রান্নার গ্যাস। প্রায় বন্ধের মুখে হোটেল, রেস্তোরাঁগুলি। গ্যাসের দোকানে দোকানে লম্বা লাইন গ্রাহকদের। একেবারে চেনা ছবি মালদহতেও। গ্রাহকরা জানানো হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বুকিং হচ্ছে না সিলিন্ডারের। গ্যাস না পেলে রান্না করবেন কিভাবে -তা নিয়ে মহা চিন্তায় আমজনতা।
গ্যাস সংকটে একই রকম সমস্যায় জেলার একাধিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ। মজুত গ্যাসে আগামী দু’দিন চলতে পারে। তারপর হয়তো বন্ধের মুখে পড়তে হতে পারে মালদহের হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলি। সেই সঙ্গে বিপাকে পড়বে জেলার পর্যটন শিল্প। এমনটাই মনে করছেন মালদহে হোটেল ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য। এদিকে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে গ্যাসকর্মীদের ।
পূর্ব মেদিনীপুর, তমলুকঃ-
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে। রান্নার গ্যাস সঙ্কটে এই প্রথম মায়ের ভোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত তমলুক বর্গভীমা মন্দির কর্তৃপক্ষের। সতীর ৫১ পীঠের এক পিঠ তমলুকের বর্গভীমা মন্দির। প্রতিনিয়ত মায়ের ভোগ পুণ্যার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাসের সঙ্কটে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিলেন যে ২১ শে মার্চের পর থেকে সাধারণ ভক্তদের জন্য আর মিলবে না মায়ের ভোগ। যারা বুকিং করেছেন তাদেরও ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। যদি গ্যাস পাওয়া যায় তাবেই আবার ভক্তদের জন্য প্রসাদ ব্যবস্থা করবেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। যদিও ভক্তরা জানান, অনেক আশা নিয়ে অনেক দূর দুরান্ত থেকে মায়ের ভোগ পাওয়ার আশায় যান। ভোগ না মিললে নিরাশ হবেন।

