Site icon Hindustan News Point

Makar Sankranti: গঙ্গাসাগর থেকে জয়দেব কেন্দুলি, মকর সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নান ভক্তদের ঢেউ সর্বত্র

makar sankranti

মকর সংক্রান্তি মানেই বাঙালির ধর্মীয় জীবনে এক বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ। বুধবার ভোর থেকেই সেই চিরাচরিত ছবি ধরা পড়ল রাজ্যের দুই প্রান্তে- দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর ও বীরভূমের জয়দেব কেদুলি। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর স্রোতে মুখরিত হয়ে উঠল সাগরতট থেকে অজয় নদের ঘাট। Makar Sankranti

পৌষ সংক্রান্তিকে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে জনজোয়ার। ‘সব তীর্থ বার বার, গঙ্গাসাগর একবার’- এই প্রবাদকে সামনে রেখেই দেশ-বিদেশের সাধু-সন্ন্যাসী, নাগা সন্ন্যাসী ও সাধারণ পুণ্যার্থীরা সমবেত হন সাগরতটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবছর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ উদ্যোগে সুষ্ঠুভাবে চলছে পুণ্যস্নান। ড্রোন নজরদারি, মেডিক্যাল ক্যাম্প, পানীয় জল ও অস্থায়ী শৌচাগারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে ভিড় সামাল দিতে।

অন্যদিকে, পৌষ সংক্রান্তির দিন পুণ্য মকর স্নানের মধ্য দিয়েই শুরু হলো বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী জয়দেব কেন্দুলি মেলা। অজয় নদের কদম খণ্ডির ঘাটে ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। প্রবাদ অনুযায়ী, কবি জয়দেব প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের জন্য কাটোয়ায় যেতেন। একবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে না পারায় তিনি স্বপ্নাদেশ পান- মকর সংক্রান্তির দিন মা গঙ্গা উজান বেয়ে অজয় নদে এসে উপস্থিত হবেন। সেই বিশ্বাস থেকেই এই ঘাটে স্নান করলে গঙ্গাসাগরের সমান পুণ্য লাভ হয় বলে মনে করা হয়।

শুধু পুণ্যস্নানই নয়, জয়দেব কেন্দুলি মেলা বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। বাউল, ফকির, কীর্তনীয়া ও সাধুদের ত্রিবেণী সঙ্গমে মেলাটি কয়েকদিন ধরে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক আবহে ভরে ওঠে। লোকসংস্কৃতি, ভক্তিগীতি ও ধর্মীয় আচার মিলেমিশে এই মেলাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। Makar Sankranti

একদিকে গঙ্গাসাগরের বিশালতা, অন্যদিকে জয়দেব কেন্দুলির লোকঐতিহ্য মকর সংক্রান্তিতে এই দুই তীর্থকে ঘিরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাংলার ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের বহমান ধারা। শীতের সকালে পুণ্যস্নানের জলে যেমন শরীর শুদ্ধ হয়, তেমনই প্রাচীন বিশ্বাসে মনও হয়ে ওঠে নির্মল তাই এখনও প্রতিবছর সাড়ম্বরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হয় মকর সংক্রান্তির উৎসব।

Exit mobile version