হোলির রাতে সামান্য ঝগড়া থেকেই বড়সড় অশান্তির ঘটনা ঘটল মালদার মানিকচকের মথুরাপুর কাহার পাড়ায়। বুধবার রাতে গুলির ঘটনায় ১৪ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ওই কিশোরের বাবা-মা সহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন অভিযুক্ত কিশোরের বাবা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোলির রাতে এলাকার কয়েকজন অল্পবয়সি ছেলের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই সময়ে এলাকার রেশন ডিলার সমীর গুপ্তর ১৭ বছরের ছেলে তার বাবার বন্দুক থেকে গুলি চালায়।
এই গুলিতে জখম হন ১০ বছরের বালক সম্রাট মাহারা, ১৪ বছরের কিশোর সমর রজক, সমরের বাবা কালু রজক, মা নমিতা রজক এবং অরুণ মণ্ডল নামে আরও এক গ্রামবাসী। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।Malda Shootout
এইরকম প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা কখনোই কাম্য নয় বলে জানান গ্রামবাসী বিষ্ণু মাহারা। তিনি বলেন, ‘অল্প বয়সী ছেলেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতেই পারে সেটা মুখে বললে বা হাতাহাতি অবধি যেতে পারে। কিন্তু প্রকাশ্যেক গুলি চালিয়ে কেউ কাউকে খুন করে দিতে পারে না।’এদিকে গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সমীর গুপ্তর বাড়িতে চড়াও হন। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সমীর গুপ্তকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ১৪ বছরের কিশোর সমর রজকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এবিষয়ে মৃতের কাকা বিল্টু রজক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর ভাইপোকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন। তাঁর কথায়, নাবালকের গায়ে ৪টি গুলি লেগেছিল, দুটি বুকে এবং দুটি মাথায়। এরপর তিনি কিশোরকে নিয়ে মালদা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রাত তিনটে নাগাদ হাসপাতাল থেকে খবর আসে যে ওই নাবালক অর্থাৎ সমর রজক মারা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে মানিকচক থানার বড় পুলিশবাহিনী এলাকায় পৌঁছয় এবং প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে।Malda Shootout

