মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
হুগলি ও সিঙ্গুরে কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “আমি চাই এই দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হোক। অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর আমাদের ভরসা নেই। সমস্ত এজেন্সি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখলে চলবে না, এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা জরুরি।
আগুন আর কালো ধোঁয়া, কী হয়েছিল অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার পর? মুখ খুললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তা হলে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন ওঠে। প্রতিদিনের মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা দরকার।” তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ইঙ্গিত মিলেছিল যে অজিত পাওয়ার বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছাড়তে চাইছিলেন এবং ভবিষ্যতে বিরোধী শিবিরে ফেরার সম্ভাবনাও ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনা আরও সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলেও গভীর শোক নেমে এসেছে। এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-র নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এক শব্দে নিজেকে ‘বিপর্যস্ত’ বলে প্রকাশ করেছেন। শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে)-র সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও শোক জানিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অজিত পাওয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন’।
বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার
সব মিলিয়ে, অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু শুধু এক রাজনৈতিক নেতার প্রয়াণ নয়, বরং দেশের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।









