Site icon Hindustan News Point

‘আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলুন’, বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে মমতার হুঙ্কার

Mamata Banerjee

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলীয় ভাঙন ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ, পার্টি অফিস দখল—একাধিক ধাক্কার মধ্যেও অনড় তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee)। একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ ও শীর্ষ নেতার দলত্যাগে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেও আপসহীন অবস্থান নিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রতীক ও আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও দিলেন স্পষ্ট। শনিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, তাঁকে থামাতে হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে “তাঁকে মেরে ফেলতে হবে”। একইসঙ্গে বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, দলের প্রতীক তাঁর নেতৃত্বাধীন শিবিরের কাছেই থাকবে।

তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক গোষ্ঠী গঠন করেছেন। পাশাপাশি, লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদদের একাংশও তৃতীয় ব্লক গঠন করেছে। এর জেরে ‘আসল তৃণমূল’ কে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে (Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলের প্রতীক কোথাও যাবে না। আমাকে থামাতে হলে আগে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, দলীয় প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারে।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগে নতুন ধাক্কা

তৃণমূল নেত্রীর কাছে শনিবারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের মাধ্যমে। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁকে রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন।

(Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁকে আগেই পদত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, “চন্দ্রিমার ছেলে আগেই তৃণমূল-বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, তাই তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছিলেন।” তবে বিদ্রোহী শিবিরের তরফে তাঁকে উপদেষ্টা পদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব এলেও তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।

‘অর্থমন্ত্রী হয়েও বাজেটের বিষয়ে কিছুই জানানো হতো না’, পদত্যাগ করেই বিস্ফোরক দাবি চন্দ্রিমার

‘বিজেপির কাছে মাথা নত করব না’

বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে (Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরা চাপে পড়েই দল ছেড়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “আমি বিজেপির সামনে মাথা নত করব না, আমার দলও কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।”

শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাতেও প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “ওই অফিসটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লিজ রয়েছে। কেউ দল ছাড়লেই প্রতিষ্ঠান শেষ হয়ে যায় না। ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সম্পত্তি কেউ জোর করে দখল করতে পারে না।”

দুই মাসের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা!

দলত্যাগীদের উদ্দেশে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে (Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলের প্রতীক আমি পেয়েছি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনাদের মনোনয়নে আমি স্বাক্ষর করেছি। ভোটের মাত্র দু’মাসের মধ্যে কীভাবে বিশ্বাসঘাতক হয়ে গেলেন? এরও একটা সীমা থাকা উচিত।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্রোহীরা বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন, যা তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের আদর্শই বিজেপি-বিরোধী।”

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের পর তিনি নিজেই জাতীয় ও রাজ্য—উভয় স্তরে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলেও ঘোষণা করেন। পাশাপাশি জানান, তাঁর বাড়ির অফিসই আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় হিসেবে কাজ করবে।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর শুরু ভাঙন

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। বিদ্রোহী বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এখন পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক, ২০ জনের বেশি লোকসভা সাংসদ এবং অন্তত তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল থেকে আলাদা হওয়ার ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর পদত্যাগপত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অটুট থাকার কথা জানালেও বলেন, “যেখানে বিশ্বাস নেই, আস্থা নেই, সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই আমরা পদত্যাগ করেছি।”

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে আগামী ৬ জুলাই বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিজেদের দাবি ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে রাজনৈতিক সংঘাত এবার আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ের দিকেও এগোতে চলেছে।

EPFO পোর্টালে বন্ধ UAN অ্যাক্টিভেশন, কীভাবে করবেন? রইল বিস্তারিত


Exit mobile version