গত এক দশক ধরে কলকাতার মানচিত্রে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ছিল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার অলিখিত ভরকেন্দ্র। সাধারণ মানুষের প্রবেশ যেখানে ছিল নিয়ন্ত্রিত, আর নিরাপত্তা ছিল দুর্ভেদ্য। কিন্তু ২০২৬-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুধু নবান্নের চাবিকাঠি বদলায়নি, বদলে দিচ্ছে এই ভিআইপি রাস্তার চেনা ছবিও। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির (Mamata Banerjee Security) দিকে যাওয়ার গলির মুখে ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ ছিল, তা সরিয়ে দেওয়া হলো মঙ্গলবার সকালে।
৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেই বরাবর থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই তাঁর পৈতৃক বাড়ি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত, তাঁর সেই বাড়িতে খুব বেশি বদল হয়নি। তবে বদলে গিয়েছিল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবেশ। প্রথম দিকে তেমন কোনও বদল হলেও, ২০১৬-র পর মমতার বাড়ির নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। পরে তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মেইন রোড থেকে ঢুকতে গেলেও গার্ডরেল পেরতে হত। এবার সেই ব্যারিকেড সরল।
এত দিন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রীর বাড়ির দিকে রাস্তায় এগোনোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল। পরিচয় জানতে চাওয়া হত। কী কাজ, কার সঙ্গে দেখা করবেন, এমন নানা প্রশ্ন করতেন মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবেশীদেরও বাড়ি থেকে বার হওয়ার সময় পকেটে কিংবা ব্যাগে আধার কার্ড নিতে হত। এক রাতেই সে সব অতীত।
একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ঢুকে পড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অস্ত্র নিয়ে ঢোকার অভিযোগও উঠেছিল। বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তিরা গ্রেফতারও হয়েছেন। কয়েক মাসে আগেও অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি কালীঘাট রোডে তাঁর বাড়ির এলাকায় সিসিটিভির মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ বার তিনি বিধানসভা ভোটে হারতেই রাতারাতি সরে গেল সেই সব নিরাপত্তা। এখন তাঁর বাড়ির গলির সামনে পুলিশ থাকলেও কড়াকড়ি নেই। প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছেন।

